কক্সবাজারের পেকুয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রদল নেতা ও চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শনিবার সকালে উপজেলার মেহেরনামা মোলার পাড়ায় ওয়াসিমের কবর জিয়ারত শেষে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
এ সময় রাশেদ খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবে সরকার। শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশেও সরকার রয়েছে। জুলাইয়ের চেতনা যেন কোনোভাবে মলিন না হয়, সে বিষয়েও কাজ করার কথা জানান তিনি।
পরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুটকে রাশেদ খান বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন, বিশ্বাস রাখেন, সব সমস্যার সমাধান তিনিই করবেন।
এর আগে ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাত করেন রাশেদ খান। পরে তিনি ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলমের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় শহীদ পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
সাংবাদিকদের রাশেদ খান বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, বিএনপি সরকার সবসময় তাদের পরিবারের পাশে থাকবে। শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদসহ যাদের হত্যা করা হয়েছে, প্রতিটি হত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। তিনি বলেন, আপনারা এতটুকু বিশ্বাস রাখুন, পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবেন।
রাশেদ খান আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করতে এখানে আসেন। তাই কবরস্থানে প্রবেশের প্রধান সড়কটির টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগ শিগগিরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নেবেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে বিএনপির অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের জন্য ১৬ জুলাই আত্মাহুতি দেওয়া ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামই জবাব।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তারেক রহমানের নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমেদ তখন আন্দোলনের সমন্বয়ের কাজ শুরু করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খানের ভাষ্য, একদিকে শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন করেছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে কৌশলগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমেদের সমন্বয় ছাড়া ৩৬ দিনের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফলভাবে সম্পন্ন হতো কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সকালে চকরিয়া উপজেলায় বিএনপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাশেদ খান। কবর জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাতে শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম, পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলাম, পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট, গণঅধিকার পরিষদ কক্সবাজার জেলা সভাপতি প্রাইম কাদের, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমুর রহমান হৃদয়, সদস্যসচিব আবুল কাশেম নুরী, ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম ও জুলাই যোদ্ধা হিরণ সরওয়ারসহ স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।