ভ্যান মেরামতের কথা বলে বন্ধু সেজে ডেকে এনে আশুলিয়ায় অটোভ্যান চালক সুজন হাওলাদারকে ২৯ নৃশংসভাবে হত্যার পর ১০ হাজার টাকায় ভ্যানটি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে মূল ঘাতকসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই ঢাকা জেলা।Travel Guides & Travelogues
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মো. মারুফ ৩৯ এবং লুণ্ঠিত ভ্যান কেনার অভিযোগে মোঃ তানভীর ঢালী ওরফে আকাশ ২২। আসামিরা আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উত্তরাস্থ পিবিআই ঢাকা জেলা অফিস।পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত সুজন হাওলাদার পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের মোঃ আমির হাওলাদারের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
গত ৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে বাসা থেকে অটোভ্যান নিয়ে বের হন সুজন। রাত ৯টার দিকে স্ত্রী আলো বেগমের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন ১০ আগস্ট সকালে আশুলিয়ার আব্দুল্লাহপুরগামী রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৮১/১ ও ৮১/২ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি স্থান থেকে সুজনের রক্তাক্ত ও গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৮, তারিখ ১১/০৮/২০২৬। পরে পিবিআই ঢাকা জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্ত ও আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘাতক মারুফও একজন ভ্যানচালক এবং সুজনের পূর্বপরিচিত।
৮ আগস্ট রাতে কেরানীগঞ্জ থেকে সুজনকে ডেকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে দেখা করে মারুফ। সেখান থেকে মালামাল নিয়ে তারা গাজীপুরের কাশিমপুরে যায়।
৯ আগস্ট ভোর ৩টার দিকে কাশিমপুর থেকে ফেরার পথে আশুলিয়া ব্রিজে সুজনের অটোভ্যানটি নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ি ঠিক করতে না পেরে তারা এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অবস্থান নেয়।
সেখানে মারুফ ইয়াবা সেবন করে। সুজন ঘুমিয়ে পড়লে দুপুর ১২টার দিকে মারুফ একটি ভারী পাথর দিয়ে সুজনের মাথায় আঘাত করে। এরপর ভ্যানে থাকা চাপাতি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে।
হত্যার পর রক্তমাখা চাপাতি পাশের পানিতে ফেলে দিয়ে সুজনের অটোভ্যান ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায় মারুফ। পরে ভ্যানটি মাদারীপুরে নিয়ে আসামি তানভীরের কাছে মাত্র ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়।
পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে দ্রুত সুজনের পরিচয় সনাক্ত করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদরের আনসার ক্যাম্প এলাকা থেকে মারুফ ও তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়।
মারুফের দেখানো মতে ঘটনাস্থলের পাশের পানি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতি, সুজনের মোবাইল ও লুণ্ঠিত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই ঢাকা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার এম. এন. মোরশেদ, পিপিএম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ছায়াতদন্ত শুরু করে। নিরলস প্রচেষ্টায় ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা মূল আসামীকে সনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামালসহ গ্রেফতার করতে পেরেছি।