বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
ড্রাম ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুজনের নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল মামা-ভাগ্নের লাশ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের জার্সি কেনার হিড়িক মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আট দলের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ যুদ্ধে কতটা সফল ইরান? ঢাকার খাল পুনরুদ্ধারে সীমানা চিহ্নিতকরণে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী গ্রামের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রথম কৃতিত্ব শহীদ জিয়ার ….স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেহাত হওয়া রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়নে আইনি লড়াই জোরদার করা হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

দোষ প্রমাণ হলে নাসির-তামিমার হতে পারে ৭ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলার রায় আজ বুধবার (১০ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত। রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ রায় দেওয়া হবে।

পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন তামিমা সুলতানা তাম্মি। এ অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

মামলার এজাহারের তথ্য মতে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বিয়ে করেন রাকিব হোসেন নামের এক ব্যক্তি। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন তামিমার প্রাক্তন স্বামী রাকিব হোসেন।

তবে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি এবং তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন খারিজ হয়ে যায়। একই বছরের ২০ মার্চ বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের মার্চে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন, যা গত ৮ এপ্রিল শেষ হয়। সবশেষে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন।

শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নাসির হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমা সুলতানার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাটির মূল প্রশ্ন হলো আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল ছিল কি না এবং তালাকের আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না। যদি করা না হয় তাহলে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার বিধান মতে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে রয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, এ রায় ভবিষ্যতে তালাক, পারিবারিক আইন এবং দ্বিতীয় বিয়ে-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102