মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
‘তোরা আমাকে ভালো হতে দিলি না’, কাদের উদ্দেশে বললেন সালমান মুক্তাদির? হুইপের কণ্ঠ নকল করে সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৪ সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ৪র্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত BUFT-এর নতুন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রথম সভা, পরিচালক হলেন এম কফিল উদ্দিন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্হায়ী কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত নওগাঁয় দ্বিতীয় দিনের মতো বাস-অটোরিকশা চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম আসেনি দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুল উত্তরায় শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ও নারীসহ ১৫ জন আটক টঙ্গীতে ১০ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার

হুইপের কণ্ঠ নকল করে সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৪

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতীয় সংসদের হুইপের কণ্ঠস্বর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল করে খুলনার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন এজাজ আহমেদ রাজা, জাকিয়া সুলতানা, মো. বাবু ও ইমরান। তাঁদের মধ্যে এজাজ আহমেদ রাজা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জাকিয়া সুলতানার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে নিজেদের জাতীয় সংসদের হুইপ পরিচয় দেন।

পরে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি নকল কণ্ঠে ব্যবসায়ী ও তাঁর প্রবাসী বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ কেনাবেচার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর সূত্র ধরে প্রথমে দুই কোটি এবং পরে আরো দেড় কোটি টাকা নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেএমপির গোয়েন্দা শাখার উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, হুইপের কণ্ঠস্বর এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল করে প্রতারণার ঘটনায় করা মামলায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে এজাজ আহমেদ রাজা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও জানান তিনি। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিএম আজিজুর রহমান নগরীর পশ্চিম টুটপাড়ার জিএম এলাহি বকসের ছেলে। তাঁর বড় ভাই জিএম মফিজুর রহমান টিকু যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী।

এজাহার অনুযায়ী, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফ তাঁর বড় ভাইকে ফোন করে জানান, জাতীয় সংসদের হুইপ ‘বকুল ভাই’ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর একটি বিদেশি নম্বর হুইপের নম্বর হিসেবে দেওয়া হয়।
ওই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে কল করলে অপরপ্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে হুইপ বকুল পরিচয় দেন। ২৯ জুলাই রাত ২টা ৩৮ মিনিটে পশ্চিম টুটপাড়ার বাসায় থাকা অবস্থায় মফিজুর রহমান টিকু ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ভাই ব্যবসায়ী আজিজুর রহমানকে গ্রুপ কলে যুক্ত করেন। সেখানে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ কেনাবেচা নিয়ে আলোচনা হয়।

এজাহারে বলা হয়, আলোচনার একপর্যায়ে হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি যন্ত্রাংশ কেনার আগে অগ্রিম পেমেন্ট ক্লিয়ার করার কথা বলেন। পরে ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে একজনকে পাঠানোর কথা জানানো হয়। ২৯ জুলাই বিকেল সোয়া ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে মাহাবুবুর রহমান মামুনের আসার কথা থাকলেও তিনি না এসে এজাজ আহমেদ রাজাসহ আরো একজনকে পাঠান। তাঁদের হাতে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ কেনার পেমেন্ট বাবদ দুই কোটি টাকা দেওয়া হয়।

এরপর একই নম্বরে আবার যোগাযোগ করা হলে হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ব্যবসায়ীকে হার্ডবোর্ড মিল কেনার প্রস্তাব দেন। পরদিন ৩০ জুলাই ভোরে আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বাবু হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে জানান, ‘বকুল ভাই’ তাঁকে জুট মিলে যেতে বলেছেন। ওই দিন দুপুরে সেখানে গিয়ে যন্ত্রাংশ পছন্দ করার পর এজাজ আহমেদ রাজা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের আরো দেড় কোটি টাকা দেন ব্যবসায়ী।

এরপর হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি বারবার দেখা করার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের হুইপ খুলনায় এলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন ব্যবসায়ী। পুরো ঘটনা জানালে হুইপ তাঁকে জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তখনই প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন ব্যবসায়ী।

 

পরে ১৮ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী বাদী হয়ে খুলনা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই সাইদুর রহমান। ডিবি সূত্র জানায়, গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর বয়রা রায়েরমহল এলাকা থেকে জাকিয়া সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের কাছ থেকেও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় এআই ব্যবহার করে পরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর নকল করে আর্থিক প্রতারণার নতুন কৌশল সামনে এসেছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102