শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
উত্তরায় কোটা বিরোধী শিক্ষার্থীদের দখলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সাভারে গ্রিল কেটে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ টাকাসহ স্বর্ণলঙ্কার লুট উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে ‘গর্বিত বাবা সম্মাননা-২০২৪’ প্রদান সাহারা খাতুনের কবর জিয়ারতে দোয়া-মোনাজাত-ফুলেল শ্রদ্ধা দ্রুত পণ্য খালাস আইন বাতিলের দাবিতে কাস্টমস এজেন্টসদের বিক্ষোভ মিছিল ১০ হাজার কর্মী নিয়ে আ.লীগের ‘প্লাটিনাম জয়ন্তী’তে খসরু চৌধুরী, এমপি উত্তরায় স্বাচিপ কমিটির উদ্যোগে আ.লীগের প্লাটিনাম জয়ন্তী উদযাপন উত্তরায় হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের যা বললেন ডিসি শাহজাহান দিয়াবাড়ি হাটে পিকআপ থেকে চাঁদা আদায়কালে আটক ৩ দিয়াবাড়িতে রাস্তার উপর হাটের পশু!

উত্তরায় অগ্নিঝুঁকিতে বহু ভবন, নেই সচেতনতা

বিশেষ প্রতিবেদক। জি.এম.টি
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪
  • ১৪৯ বার পঠিত

বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধশতাধিক তাজা প্রাণ ঝরে গেলেও এখনো সচেতনতা বাড়েনি ভবন মালিক ও রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের। কোন প্রকার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই একটিমাত্র ভবনে একাধিক রেস্টুরেন্ট, কাপড়ের দোকান, ফার্নিচার শপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে ঠিক আগের মতোই। অগ্নিদুর্ঘটনার মারাত্মক ঝুঁকি থাকা সত্বেও ফ্লোরে ফ্লোরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার এমন চিত্র রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উত্তরা এলাকাজুড়ে।

শুধু তাই নয়, আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বায়িং হাউস ব্যবসা খুলে বসার মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। এসবের মধ্যেও যে ভবনগুলোর বাণিজ্যিক অনুমোদন রয়েছে সেসবের অধিকাংশেরই নেই অগ্নিনির্বাপন বা নিরাপত্তার বিন্দুমাত্র ব্যবস্থা। সম্প্রতি, উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে অগ্নিদূর্ঘটনার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।


উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর এলাকার শাহ মখদুম এভিনিউ সড়কের ১৬ নং প্লটের উপর নির্মিত ষষ্ঠ তলা আবাসিক ভবনটিতে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের নিচ তলা থেকে শুরু করে ষষ্ঠ তলার ছাদ পর্যন্ত চারটি ফ্লোরেই চলছে রেস্টুরেন্ট বাণিজ্য। তৃতীয় তলায় বিশাল কাপড়ের শো-রুম। সরেজমিনে সবগুলো ফ্লোরগুলো ঘুরে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টগুলোর রান্নার কাজে ব্যবহৃত একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার রাখা হয়েছে ষষ্ঠ তলা ভবনের ছাদে প্রবেশদ্বারের পাশের একটি কক্ষে। আর এই কক্ষের দেয়ালের পাশের খোলা জায়গায় ‘ক্যাফে দরবার’ নামক ছাদ রেস্টুরেন্ট। গ্যাস সিলিন্ডারের এমন অসতর্ক অবস্থানের ফলে যেকোন সময়ই ভবনটিতে ঘটতে পারে মারাত্মক অগ্নিদূর্ঘটনা। শুধু তাই নয়, এসব গ্যাস সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটলে ষষ্ঠ তলার ছাদ হওয়ায় আগুন নেভাতেও ফায়ার সার্ভিসকে বেগ পেতে হবে বলে স্বীকার করেছেন এসব রেস্টুরেন্টে কর্মরত শ্রমিকরা।

একই পরিস্থিতি উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের জমজম টাওয়ারের বিপরীতমুখী সোনারগাঁও জনপদ সড়কের ২৮নং বাড়িতেও। আবাসিক এই ভবনটির নিচ তলা থেকে শুরু করে ৫ম তলার ছাদ পর্যন্ত খাবার দোকান, ফার্নিচার শো-রুম, স্টাফদের আবাসিক ফ্লোর, গোডাউন, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। এই ভবনের ৩য় তলাতেই রয়েছে সেই ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টের একটি শাখা। দুপুর ৩টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় শতাধিকেরও বেশি মানুষ একত্রে বসে খাচ্ছে দুপুরের খাবার। বেইলি রোডের অগ্নিকান্ডের পর গ্রাহকদের জীবনের নিরাপত্তায় কতটা সচেতন হয়েছে এই কাচ্চি ভাই কর্তৃপক্ষ? জানতে চাইলে রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার রফিক তেমন কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

এ বিষয়ে ভবনটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা মিরাজ স্বীকার করে এটি আবাসিক হলেও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিকট ভাড়া দেয়া হয়েছে। মিরাজের কাছ থেকে ভবন মালিক আনোয়ার কবির চিশতির মোবাইল নাম্বার চাইলে তিনি মোবাইল ব্যবহার করেন না বলে জানায় ওই কেয়ারটেকার।

তবে, এসব ভবনে পরিচালিত রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা জানিয়েছে, বেইলি রোডের ঘটনার পর তারা সকলেই নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। কেননা, ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় অগ্নিকাণ্ড থেকে তাদের জীবনেও ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার জানায়, মালিকরা তো রেস্টুরেন্টে থাকে না। এখানে গ্রাহকদের জীবনের যেমন ঝুঁকি রয়েছে, ঠিক তেমনি আমরাও নিরাপদ নই।

এদিকে, উত্তরা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ বলছে, বিএনএস সেন্টার, রাজউক কমার্শিয়াল, নর্থ টাওয়ার, রাজলক্ষী কমপ্লেক্স, রাজলক্ষী টাওয়ারের মতো উত্তরার বড় বড় কর্মাশিয়াল কমপ্লেক্সগুলোতেও নেই অগ্নি নির্বাপণের যথাযথ ব্যবস্থা। এ ব্যাপারে উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহা. আলম হোসেন বলেন, আমরা অগ্নিঝুঁকি থাকা অনেক ভবন মালিক ও শপিং সেন্টারগুলোতে নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু, তা সত্বেও তারা নিজেদের মতো করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, কত সংখ্যক ভবন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে? জানতে চাইলে সংখ্যা স্পষ্ট করতে পারেননি তিনি।

অপরদিকে, উত্তরার আবাসিক ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকা সত্বেও কেন এসব ভবন কর্তৃপক্ষ ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না? জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (উত্তরা জোন) এর এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা নোটিশ করলেও তারা (ভবন মালিকরা) অসাধু কর্মকর্তাদের পরামর্শে আদালতে রিট করে দেয়। এছাড়াও অভিযান চালাতে গেলেও পুলিশ পেতে সময় লেগে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩
themesba-lates1749691102