রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ মামুন (৪৪)-কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। ২১ মে ( বুধবার ) দুপুরে খিলক্ষেত বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত মামুন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি খিলক্ষেত মধ্যপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খিলক্ষেত ফুটওভার ব্রিজ, বাসস্ট্যান্ড, রেলক্রসিং ও বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মামুন। ফুটপাতের ফলের দোকান, ভাসমান হকার, এমনকি ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও তার লোকজন প্রতিদিন ১ থেকে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা তুলত। সব মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ৪০ হাজার টাকার চাঁদা তোলা হতো। চাঁদা না দিলে দোকান ভাঙচুর ও মারধর করার অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল ( সোমবার ) মারামারি, গুরুতর জখম ও হুমকির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মামুনকে গ্রেপ্তার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মামুন নিজেকে খিলক্ষেত থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রভাবশালী নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। খিলক্ষেত থানা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ছত্রছায়ায় থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেনাবাহিনী তাকে আটক করে পূর্বাচল ক্যাম্পে নিয়ে গেলেও ছাড়া পেয়ে তিনি আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার এই চাঁদাবাজির কারণে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রশাসনের নেওয়া হকারমুক্ত খিলক্ষেত গড়ার উদ্যোগটিও ভেস্তে যায়।
এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। অপরাধী যে–ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমগ্র খিলক্ষেত এলাকাকে নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, মামুনের গ্রেফতারের খবরে খিলক্ষেত বাজার ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু মামুনকে নয়, তার পুরো চাঁদাবাজ চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।