পৌষের হাড়কাঁপানো কামড়ে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে হিমালয় পাদদেশের জেলা ঠাকুরগাঁও। গত কয়েক দিন ধরে এখানে সূর্যের দেখা নেই। দিনের বেলাতেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকছে জনপদ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে উত্তরের হিমেল হাওয়া।
জেলায় আবহাওয়া দফতর নেই। তবে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও ঘন কুয়াশার দাপটে তা অনুভূত হচ্ছে অনেক কম।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রকৃতির এই ‘শীত-যুদ্ধে’ বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু শুরু করে শিক্ষার্থীরা। অথচ অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বা বেসরকারি স্তরে যেটুকু শীতবস্ত্র পৌঁছনোর কথা ছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
উত্তর হরিহরপুর গ্রামের পঁচাত্তর ছুঁইছুঁই আখচাষি আইয়ুব আলীর গলায় ঝরে পড়ল একরাশ ক্লান্তি। তিনি বলেন, এমন হাড়কাঁপানো শীতে লাঙল ধরা তো দূরের কথা, খামারের কাজেও হাত দেওয়া যাচ্ছে না।
একই অবস্থা খেটে খাওয়া মানুষের। পেটের দায়ে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছেন হবিবর রহমান। কিন্তু কনকনে ঠান্ডায় অবশ হয়ে আসছে হাত। তার কথায়, রিকশার হ্যান্ডেল ধরাই দায়, কিন্তু ঘরে তো খাবার নেই। না বেরিয়ে উপায় কী?
এদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই ছন্দপতন ঘটেছে জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। মথুরাপুর পাবলিক হাই স্কুল হোক বা মোলানী উচ্চ বিদ্যালয়— সর্বত্রই উপস্থিতি নামমাত্র।
মথুরাপুর পাবলিক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, অর্ধেকের বেশি ছাত্রছাত্রী আজ স্কুলে আসেনি। এই শীতে ছোট বাচ্চাদের বাড়ি থেকে বের করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
শীত যখন জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে, তখন প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে উঠছে বিস্তর প্রশ্ন। রহিমানপুর ইউনিয়নের কালিতলা ঠান্ডি রাম গ্রামের বাসিন্দা মাধবী রানী অভিযোগ করেন, এখনও পর্যন্ত তাদের গ্রামে সরকারি বা বেসরকারি কোনও শীতবস্ত্র পৌঁছায়নি।
জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা জানিয়েছেন, শীতবস্ত্রের জন্য ইতিমধ্যে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং তা বিতরণ করা হচ্ছে।