বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন নিয়ে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার। পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণ, স্মার্ট গ্রিড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্মাণ এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির (ডিপিডিসি) নেটওয়ার্ক উন্নয়নে দ্রুত অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনার জন্য ব্যাংকটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, জি-টু-জি ভিত্তিতে পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এবং ডিপিডিসি এলাকায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। তিনি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরবর্তী ধাপের সম্প্রসারণ, স্মার্ট গ্রিড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ডিপিডিসির বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক উন্নয়নে দ্রুত অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৬-এর আওতায় বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও স্মার্ট গ্রিড নির্মাণ, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরবর্তী ধাপ সম্প্রসারণ এবং ডিপিডিসির সঞ্চালন লাইন শক্তিশালীকরণে ভবিষ্যৎ অর্থায়ন দ্রুত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো পরিদর্শনের জন্য ব্যাংকটির প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণও জানান তিনি।
চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকটির অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সবুজ জ্বালানি খাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক বিনিয়োগবান্ধব শুল্ক ও কর কমানোর উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
একই সঙ্গে ভূমিভিত্তিক ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ে সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন ওয়াং চুনইং।
বৈঠকে জি-টু-জি ভিত্তিক গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং ডিপিডিসির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়ন অনুমোদন দ্রুত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতকে আরো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও সম্মতি জানায় দুই পক্ষ।