শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কারাবরণকারীদের বীর সম্মাননা স্মারক প্রদান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে পর্যটন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে হবে – এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত খেলাধুলার চর্চায় ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজ গড়ার আহ্বান: শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশকে প্রযুক্তির উৎপাদক-রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করতে হবে সকল কর্মকর্তাদের নিজ বাসভবনে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের উৎসাহ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী উৎসবমুখর কালীগঙ্গায় নৌকা বাইচ, যৌথ চ্যাম্পিয়ন একতা-২ ও কালাম এক্সপ্রেস শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে— ত্রাণ মন্ত্রী ​বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তাই এখন নতুন স্বাভাবিক অবস্থা —আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী টঙ্গীতে গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বাড়ির সামনে ১০টি ককটেল, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে পর্যটন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে হবে – এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

০৩ অক্টোবর, ২০২৬(শনিবার), ঢাকা

আজ বিকেল ৩ টায় বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আজকের এই আলোচনা সভায় উপস্থিত হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। গত এক সপ্তাহে শোভাযাত্রা, সাইকেল র‌্যালি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সিটি ট্যুর, পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন হয়েছে। দেশজুড়ে পর্যটন দিবসের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে অংশ নেওয়া সংসদ সদস্য, স্থানীয় প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারসহ সকলকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো ১৬টি ক্যাটাগরিতে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’ প্রদান করা হচ্ছে, যা এ খাতের উদ্যোক্তা ও কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য “ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন”। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতকেও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তর করা হবে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জাতীয় পর্যটন কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে এবং জিডিপিতে পর্যটনের অবদান বর্তমান প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার গঠনের পর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ, নদী ও জলাভূমিভিত্তিক পর্যটনের প্রসার, এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পদক্ষেপসমূহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রুপান্তরের জন্য পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে ১৪৯৮ টি পর্যটন স্পটকে উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সাংস্কৃতিক পর্যটনের উন্নয়ন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন,
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ পর্যটনের অন্যতম ভিত্তি। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, লোকজ ঐতিহ্য, উৎসব এবং আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্যটন (Cultural Tourism) আরও বিকশিত করা সম্ভব। তাই দেশের ৫৫৪ টিরও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পর্যটনকে বিকশিত করার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করার কার্যক্রম চলমান।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। পর্যটন উদ্যোক্তা, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসা, ট্যুর অপারেটর, এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিনিয়োগ বান্ধব নতুন জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী বলেন, বিগত ২০ বছরে দেশের পর্যটন খাতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে এমন একটি পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে একজন দেশি বা বিদেশি পর্যটক নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। টেকসই পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সৌন্দর্যের গল্প আমরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাত ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আরও আধুনিক, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতিসহ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102