মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী কালীগঙ্গা নদীতে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন এবং প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
বেউথা কালীগঙ্গা নদীর কান্দাপৌলী এলাকা থেকে নয়াকান্দি মোড় পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ নৌকা বাইচে কুড়িগ্রাম, পাবনা, দোহার, নবাবগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২৪টি নৌকা অংশ নেয়।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে কালীগঙ্গা নদীর দুই তীরে বসে অস্থায়ী দোকানপাট, খাবারের স্টল ও নানা ধরনের বিনোদনের আয়োজন। নাগরদোলাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বড় লোকজ মেলায়। নদীর দুই পাড়ে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। উৎসাহ-উদ্দীপনায় তারা নৌকা বাইচ উপভোগ করেন। নদীতে টলার, স্পিডবোট ও নৌকায় করেও বিপুলসংখ্যক মানুষ উৎসবে অংশ নেন। অনেককে গান গেয়ে, নেচে এবং বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে আনন্দ-উৎসবে অংশ নিতে দেখা যায়।
প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার একতা-২ ও কালাম এক্সপ্রেস নৌকার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। প্রতিযোগিতার অধিকাংশ সময় কালাম এক্সপ্রেস এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যায়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। এ অপ্রত্যাশিত ঘটনায় খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি উভয় নৌকাকে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার জন্য আয়োজক কমিটিকে অনুরোধ করেন। পরে একতা-২ ও কালাম এক্সপ্রেসকে যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
নৌকা বাইচের উদ্বোধনের পর খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি স্পিডবোটে করে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে নদীর দুই তীরে অবস্থানরত দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত নৌকা বাইচে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নৌকা বাইচ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আ. তা. ম. জহির আলম খান লোদীর সভাপতিত্বে প্রতিযোগিতা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে নৌকা বাইচে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া ১১৫ হাত দীর্ঘ কলাগাছের ভেলা তৈরি করে নৌকা বাইচে অংশগ্রহণকারী দলকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।
খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি বলেন, “মানিকগঞ্জের মানুষ সংস্কৃতিমনা। কালীগঙ্গা নদীর নৌকা বাইচ এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আজকের আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতেও এ ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রতিবছর নৌকা বাইচ আয়োজন করা হবে এবং সবাই মিলে তা উপভোগ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি নৌকা বাইচে অংশগ্রহণকারী সব প্রতিযোগী, আয়োজক, প্রশাসন ও সর্বস্তরের দর্শনার্থীদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।