শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
১১৭০ কৃষকের হাতে কার্ড – অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’ ডেপুটি স্পিকারের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ, মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে, আমি নিজে তার বিরুদ্ধে মামলা করবো : ডেপুটি স্পিকার যাত্রা শুরু করল বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ ব্যাংকার স্বামীর নির্যাতনের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে কোথায় যাবেন ফাতেমা? তুরাগে ফুটবল উদ্ধারে নেমে নিখোঁজ দুই শিশু, দ্বিতীয় দিনেও চলছে ডুবুরি অভিযান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করা হবে নওগাঁ-৪ আসনের এমপি ডাঃ ইকরামুল বারী টিপুর রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল প্রতিটি গ্রামে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ছড়িয়ে দিতে চাই’: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক কালীগঞ্জে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল পৌর কর্মচারীর

১১৭০ কৃষকের হাতে কার্ড – অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’ ডেপুটি স্পিকারের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলাকেও এ কার্যক্রমের মধ্যে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও কৃষকদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি উদ্বোধনের পর সর্বপ্রথম বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে। এ সময় নেতৃবৃন্দের মাঝে আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ১৭০ জন উপকারভোগী কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা সরকারের কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় যুক্ত হলেন।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দলীয়করণ বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। দল, মত ও পথের ঊর্ধ্বে উঠে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্তভাবে এসব কার্ড বিতরণ করতে হবে। এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কাজ করতে করতে শিখি। ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কিছু অনিয়ম বা ভুল ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই ভুলগুলো সংশোধন করে নতুনভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। আশা করছি, এই ভুলগুলো আর হবে না। আজকে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন হলো। দুর্গাপুরও সেই কৃষক কার্ডের ভাগীদার হলো। এখন পর্যন্ত যতটুকু তথ্য পেয়েছি, কোনো ধরনের ত্রুটি পাইনি।

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দল-মত, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দুর্নীতিমুক্তভাবে কার্ড বিতরণ করাই প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা ও নির্দেশনা। জনগণের জন্য যে অনুদান ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা আসে, সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

কায়সার কামাল আরও বলেন, যারা এর ব্যত্যয় ঘটাবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করবে।

দুর্গাপুর-কলমাকান্দায় জামদানি শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাকে জামদানি শিল্পের হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ডেপুটি স্পিকার। এ অঞ্চলের জামদানি শাড়ি দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কারিগরদের আর্থিক প্রণোদনা, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া গেলে এ শিল্প পুরো অঞ্চলকে বদলে দিতে পারে।

ডেপুটি স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, এই জামদানি আমাদের কলমাকান্দা-দুর্গাপুরকে বদলে দিতে পারে। তাদের যদি আর্থিকভাবে একটু প্রণোদনা, শক্তি, সাহস ও প্রশাসনিক সুবিধা দিতে পারি, ইনশাআল্লাহ কলমাকান্দা-দুর্গাপুর জামদানির হাটে পরিণত হবে। সারাদেশের মানুষ দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে নতুন ভাবে চিনতে পারবে।

পাহাড়ি এলাকায় পানি ও হাতি সমস্যা সমাধানে জানতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, পাহাড়ি এলাকার খাবার পানির সংকট ও হাতির উপদ্রব নিয়েও কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি জানান, পানি ও হাতিÑদুই সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে শেরপুর ও নেত্রকোনার পাহাড়ি অঞ্চলকে নিয়ে একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ চলছে। “পানি এবং হাতিÑএই দুইটার বিষয়ে পাহাড়ি অঞ্চল শেরপুর এবং নেত্রকোনাকে একত্র নিয়ে একটা প্রজেক্ট হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, পাহাড়ি জনপদ এর সুফল প্রচুর পাবে ইনশাআল্লাহ।”
এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের অনিয়ম থাকলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

“দেড় দশকে অনেক কিছু হয়েছে। এনাফ ইজ এনাফ। অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নেব, অতীতকে ক্ষমা করব। কিন্তু অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আর যে কর্মকর্তা, যে শিক্ষক অতীত থেকে শিক্ষা নেবেন না, তার ঐ প্রতিষ্ঠানে থাকার যোগ্যতা নেই, তাকেও শিক্ষা দেওয়া হবে।

এসময়, নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ রফিকুল ইসলাম হেলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিঙ্ মিডিয়ার প্রতিনিধিগণসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102