আদর্শ সমাজ গঠন ও মাদক প্রতিরোধে আলেম-ওলামাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক, অনৈতিকতা ও বিভেদ দূর করতে আলেমদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ‘আদর্শ সমাজ গঠন ও মাদক প্রতিরোধে উলামায়ে কেরামের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। প্রধান আলোচক ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিগত দিনে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। একসঙ্গে জেল খেটেছি এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জেলখানায় দেখেছি, আলেমদের অনেক সময় আমাদের চেয়েও বেশি অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমরা তা ভুলে যাইনি।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে মতের পার্থক্য থাকতে পারে। ভুল-ভ্রান্তিও হতে পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। কোনো বিভেদকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে অতীতের মতো নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড আর কখনো না ঘটে।
ঢাকা-১৮ আসনের ১৪টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। পাশাপাশি সবসময় আলেম-ওলামা ও ভালো মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গেও থাকার চেষ্টা করি।
এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আল্লাহ যতদিন আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন আমি দ্বীনের সঙ্গে, কোরআনের সঙ্গে এবং আপনাদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করব। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন এবং পাশে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা শেখ আজিমুদ্দীন, অন্যতম উপদেষ্টা মাওলানা আবু ইউসুফ মাহমুদী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার সম্পাদক মুফতি শরীফুল্লাহ।
বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন।