ফেনীতে নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় মো. শাকিল হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি শাকিল উপস্থিত ছিলেন। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জের বেপারীবাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৬ জুন কোচিংয়ের যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে ভুক্তভোগী আড় বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পান দাগনভূঞা থানা পুলিশের তৎকালীন এসআই মনোয়ার হোসেন।
ওই বছরের ২২ জুন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার পাশে মেয়েটির নানার বাড়ির পার্শ্ববর্তী মো. শাকিল হোসেনের ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাকিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অপহরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সূত্র আরো জানায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ অভিযুক্ত শাকিলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।
এ মামলায় ৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দাগনভূঞা থানা পুলিশের এসআই মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে অপহরণ করে লক্ষ্মীপুরে মেয়েটির নানার বাড়ির পাশে নিজবাড়িতে নিয়ে যান শাকিল। সেখান থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘রায়ে আসামি শাকিলের ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরো দুই মাস দেওয়া হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এ রায়ে সমাজে নারীর প্রতি অবিচার ও সহিংসতা কমবে।