নোয়াখালীতে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, কিশোর গ্যাং ও উত্ত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘নোয়াখালীতে মাদকের ডালপালা নয়, শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।
বুধবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পুলিশ এ সভার আয়োজন করে। সভায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, আইনজীবী, চেম্বার অব কমার্সের নেতাসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন।
ডিআইজি বলেন, মাদকের ভয়াবহতার কারণে সমাজে কিশোর গ্যাং, খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ বাড়ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের গ্রেপ্তারের পর কোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। এ বিষয়ে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
সন্ধ্যার পর কিশোরদের রাস্তাঘাটে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলে তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান ডিআইজি।
সভায় নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ মো. হারুন-উর রশিদ আজাদ, নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবিএম জাকারিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন।
নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ কাজী মো. রফিক উল্যাহ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক বাদল, মাওলানা ইসহাক খন্দকার, বাবু কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস, শাহজাহান রানা, নুরুল আমিন খান, সাংবাদিক আকবর হোসেন সোহাগ, শাহাদাত বাবু ও আজগর উদ্দিন দুখুসহ অনেকে।
সভা শেষে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী র্যালিতে অংশ নেন।
বিষয় : ডিআইজি মাদক নোয়াখালী