ফ্রান্সে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রাজধানী প্যারিসে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় জরুরি চিকিৎসা সেবার আওতায় ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
ফ্রান্সইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রোগীদের বাসা ও জনসমাগমস্থলে জরুরি চিকিৎসা সেবার কর্মীরা দায়িত্ব পালনকালে এসব মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করেন। বছরের একই সময়ে যেখানে গড়ে মাত্র সাতজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, সেখানে এবার সংখ্যাটি ১০৯-এ পৌঁছেছে। তবে হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত গরমে হওয়া মৃত্যুর ঘটনা এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
এদিকে শুক্রবার প্যারিসের সেইন্ট-মার্টিন খালে নির্ধারিত সময় ও তত্ত্বাবধানের বাইরে সাঁতার কাটতে গিয়ে এক ব্যক্তি ডুবে মারা যান বলে জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
একই দিনে ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জানান, তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর থেকে সারা দেশে ডুবে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে অনুমোদনহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে।
প্যারিস এবং আশপাশের ও-দ্য-সেন, সেইন-সাঁ-দেনি ও ভাল-দ্য-মার্ন অঞ্চলের চারটি জরুরি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে গত এক সপ্তাহে ফোনকলের সংখ্যা ৮০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তি স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ৩৬ শতাংশ এবং আগের দিনের তুলনায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করলেও তাপপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স শনিবারও দেশের ৩৫টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ এবং ৩৪টি অঞ্চলে বজ্রঝড়ের জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি রেখেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রোববার সন্ধ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা প্রত্যাহার করা হতে পারে।