প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, জমির মালিকদের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক চুক্তি অর্থের পাশাপাশি ফ্ল্যাট বা অন্য যেকোনো আর্থিক সুবিধার ওপরও ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর দিতে হবে। এর আগে শুধু প্রাথমিক চুক্তি অর্থের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য ছিল।
শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান শেলটেকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর বিক্রি কিছুটা বেড়েছিল।
মো. শাহজাহান আরো বলেন, প্রতিবছরই নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে। এবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন করের কারণে ব্যয় আরো বাড়বে। একই সঙ্গে জমির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ফ্ল্যাটের মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আরো কয়েকজন আবাসন ব্যবসায়ী বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আবাসন খাতে মন্দা ভাব চলছে। এ সময়ে প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যদের বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছিলেন তারা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তায় সেটি হয়নি। আবার কর আরোপের কারণে ব্যবসায়ে গতি ফেরাও কঠিন হবে। তার কারণ করের প্রভাবে খরচ বাড়বে। ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুটে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আবাসন বাজারে স্থবিরতা দেখা দেয়। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় বাজারে গতি ফেরেনি। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং দেশের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন কর আরোপের ফলে আবাসন খাতের বিদ্যমান সংকট আরো গভীর হতে পারে।