শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

পোশাকখাতের অংশীজনদের নিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) “সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১টায় রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য জনাব শেখ কামরুল হাসান, বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব ইনামুল হক খান ও সহ-সভাপতি জনাব মোঃ রেজোয়ান সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

সদস্য জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জনাব শেখ কামরুল হাসান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃদ্ধ বয়সে যে আর্থিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না বিধায় উন্নত দেশের ন‍্যায় বাংলাদেশেও বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন‍্যই সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলেন, দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে, যা বার্ধক্যে নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষার একটি বড় অবলম্বন হয়ে উঠবে। তিনি জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে এই স্কিমে চাঁদা জমা দিতে পারবেন এবং ৬০ বছর পূর্ণ হলে জমাকৃত অর্থ পেনশন আকারে ফেরত পাবেন। কোনো গ্রাহক ৬০ বছর বয়সের আগে মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ পাবেন, আর আয়ের সমস্যায় নিয়মিত চাঁদা দিতে সমস্যা হলে চাঁদার পরিমাণ কমবেশি করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্কিমে জমাকৃত অর্থ গ্রাহকদেরই যথাসময়ে ফেরত দেওয়া হবে এবং ৬০ উর্ধ্ব বয়সে উন্নত জীবন ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে । পেনশন স্কিমের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করার জন্য সরকার এডিবির অর্থায়নে ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তাছাড়া, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬ এর সর্বশেষ সংশোধনীতে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক আছে এমন সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বিধায় এধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদেরদের জন্য সর্বজনীন স্কিমে হিসাব খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের এই স্কিমে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিজিএমই’কে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কমের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ এ পেনশন তহবিল গঠনের কথা বলেছেন, যেটি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার কাজ করছেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সার্বিক কল্যাণ, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। সেক্ষেত্রে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পোশাক খাতের সকল শ্রমিককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এক ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, এই স্কিমকে শ্রমিকদের মাঝে অধিকতর জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করতে প্রথম ২ বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা প্রদান এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশনের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই সংস্কারসমূহ বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্কিমে যুক্ত হতে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব ইনামুল হক খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরবর্তীতে এর ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকারের এই স্কিম চালুর উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, যুগান্তকারী এবং প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি জনাব মোঃ রেজোয়ান সেলিম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আকর্ষণীয় ‘রেট অফ রিটার্ন’ বা মুনাফার হার বিবেচনা করলে এটি আমাদের শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে। তাই পোশাক খাতের সকল শ্রমিককে এই যুগান্তকারী স্কিমের আওতায় নিয়ে আসতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।

সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা স্কিম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সংশয় তুলে ধরলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বিস্তারিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের আশ্বস্ত করেন। বক্তারা বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যেই সরকারের এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, এবং পোশাক খাতের মতো বৃহৎ কর্মসংস্থানমুখী খাতের সম্পৃক্ততা এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন পোশাক শিল্পের মালিক, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102