শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করেই দেশগঠনে কাজ করছে সরকার – ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বিজিএমইএ এর ৪৩ তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত এসডিআই, এডাস্ট এবং বাংলাদেশ ভ্যাট প্রফেশনালস ফোরামের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে নকআউটে মেক্সিকো জীবন্ত মানুষকে খাচ্ছে পোকা, খবর পেয়ে ছুটে গেলেন এমপি! জীবন্ত মানুষকে খাচ্ছে পোকা, খবর পেয়ে ছুটে গেলেন এমপি, এস এম জাহাঙ্গীর জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য সঠিক নীতিমালা এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা লালমনিরহাটে নিহত শিশু নন্দিনীর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি দুর্গাপুরে বড় ভাইয়ের ঘরের বারান্দা থেকে ছোট ভাইয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করেই দেশগঠনে কাজ করছে সরকার – ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম, ২০ জুন (৫ই আষাঢ়)

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কালজয়ী আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমানের সরকার একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, শহীদ জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের এক অবিস্মরণীয় ও কালজয়ী স্থপতি।

আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম কোতোয়ালীস্থ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ভবনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পবিত্র খতমে কোরআন, আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের অন্ধকার রাতে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন চরম দিকনির্দেশনাহীনতায় ভুগছিল, তখন মেজর জিয়াউর রহমান বীরদর্পে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং সম্মুখসমরে থেকে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে তিনি ব্যারাকে ফিরে গিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে তিনি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন।

শহীদ জিয়ার দূরদর্শী ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, জিয়াউর রহমান কেবল স্বাধীনতার ঘোষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের আধুনিকায়নের রূপকার। একদলীয় শাসনের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। দেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে তিনি ঐতিহাসিক ‘১৯ দফা কর্মসূচি’ এবং দেশব্যাপী ‘খাল খনন কর্মসূচি’র মাধ্যমে কৃষি বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প (গার্মেন্টস সেক্টর) এবং জনশক্তি রপ্তানির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তিনিই স্থাপন করেছিলেন। গ্রামীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা, যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপসমূহ আজও দেশের অগ্রগতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ এবং বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তি আজ ঐক্যবদ্ধ। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু মঞ্চের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমেই শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামের বীর জনতা ক্ষমতার অপব্যবহার বা ভোগের জন্য আমাদের নির্বাচিত করেনি, বরং তাদের অধিকার ও সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই এই পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। সকল জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চউক, ওয়াসা-সহ সকল সেবা সংস্থাকে সাথে নিয়ে একটি সমন্বিত, পরিকল্পিত, আধুনিক ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন ও উন্নত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশ রক্ষা, শিল্প বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, হালদা নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নগরীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছেন। চউকের বর্তমান গতিশীল নেতৃত্ব চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে মাইলফলক স্পর্শ করবে এবং সরকার এ লক্ষ্যে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজের দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা ‘ওজন নির্ধারণী স্কেল’ (ওয়েইং স্কেল) সংক্রান্ত জটিলতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে আমরা অত্যন্ত আন্তরিক। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে সমন্বয় করে এর একটি স্থায়ী ও যৌক্তিক সমাধান করা হবে এবং এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কার্যকর প্রস্তাবনা খুব শীঘ্রই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে পেশ করা হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে চউক-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যে নজিরবিহীন অনিয়ম, হরিলুট ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, তার অবসান ঘটানো হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের পয়সার অপচয় এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির সংস্কৃতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সহ চট্টগ্রামের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উপস্থিত সর্বস্তরের নেতাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণকে শহীদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে গভীর দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর রুহের মাগফিরাত কামনায় পবিত্র খতমে কোরআন, বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশ, জাতি ও সর্বস্তরের জনগণের সুখ, সমৃদ্ধি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজ, আলেম-ওলামা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102