ছোট বেলা থেকেই সন্তানকে নীতি-নৈতিকতার ওপর গড়ে তুলতে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য। বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ও প্রচার-প্রসারে কয়েক ধরণের ব্যবস্থাই প্রচলিত রয়েছে। যার মধ্যে কওমি ঘরানোর শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে পুরানো । কওমি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী তাহযিব, তামাদ্দুন, তাকওয়া ও উন্নত আখলাক গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ থাকায় সন্তানের পড়াশোনায় এই ধারা সচেতন অভিভাবকদের অনেকেরই পছন্দের।
সময়ের পরিক্রমায় রাজধানী ঢাকার উত্তরাতেও গড়ে উঠেছে এমন কিছু কওমি মাদ্রাসা, যেখানে পড়াশোনা করছেন হাজারো শিক্ষার্থী। উত্তরা নিউজের পাঠক ও সচেতন অভিভাবকদের অভিভাবকদের সুবিধার্থে প্রতিবেদনে উত্তরার কয়েকটি কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কে তুলে ধরেছেন উত্তরা নিউজের রিপোর্টার রাকিব ইদ্রিস—
উত্তরায় ইসলামি শিক্ষার প্রসারে যে কয়টি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলেছে তার মধ্যে শুরুতেই উঠে আসে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর পাশ্বৃবর্তী তুরাগের নয়ানগরে অবস্থিত জামিয়াতুন নূর আল কাসেমিয়ার নাম। নয়ানগর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার মোড়ে আনুমানিক প্রায় ২০ কাঠা আয়তনের জায়গার ওপর চার তলা দৃষ্টিনন্দন ভবনটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ইসলামী শিক্ষা ও পাঠদানের এক অনিন্দ্য পরিবেশ।
জানা যায়, মাত্র ৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালে যাত্রা শুরুর পর বেফাক পরীক্ষায় এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বেফাক বোর্ডে ভাল ফলাফল করায় অল্প দিনেই মাদ্রাসাটি বেশ সুনাম অর্জন করেছে। জামিয়াতুন নূর আল কাসেমিয়ার প্রতিষ্ঠাতা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমি। তিনি দীর্ঘদিন জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
উত্তরায় ইসলামি শিক্ষার প্রসারে এর পরেই রয়েছে দিয়াবাড়ি মেট্রোস্টেশন সংলগ্ন জামিয়াতুল মানহাল আল-কওমিয়ার নাম। সেই ২০১১ সাল থেকেই উত্তরা দিয়াবাড়িতে উন্নত পরিবেশে প্রতিষ্ঠানটি ইসলামী শিক্ষা প্রসারে প্রশংসা কুড়িয়ে আসছে। সুবিশাল দুটি ক্যাম্পাস নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ইসলামী শিক্ষার একটি সুশৃঙ্খল ও মনোরম পরিবেশ।
জানা যায়, ২০২৬ সালে বেফাক বোর্ড পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে রীতিমতো সবার নজর কেড়েছে এই ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।বিশেষ করে হিফজুল কুরআন বিভাগে শিক্ষার্থীদের অবিশ্বাস্য ফলাফল প্রতিষ্ঠানটিকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করে তুলেছে।
জামিয়াতুল মানহালের প্রতিষ্ঠাতা উত্তরা রাজলক্ষ্মীতে অবস্থিত মসজিদুত তাকওয়ার খতিব মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আযহারী। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কওমী শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়াতেও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
ইসলামী শিক্ষার প্রসারে উত্তরায় এর পরপরই যে প্রতিষ্ঠানটির নাম শোনা যায়, সেটি হচ্ছে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত মাদরাসাতুল ইহসান আল-আরাবিয়াহ। ২০০৫ সালে গড়ে ওঠা এই ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মাদানী নেসাবের শিক্ষায় সারা দেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বেফাক পরীক্ষায় অতুলনীয় ফলাফলের মাধ্যমে উত্তরায় উল্লেখযোগ্য পরিচিতি অর্জন করেছে।
মাদরাসাতুল ইহসান আল-আরাবিয়াহর প্রতিষ্ঠাতা হলেন মাদানী নেসাবের অন্যতম উপদেষ্টা মাওলানা মুনিরুজ্জামান (ডেমরার হুজুর)। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কওমী শিক্ষাব্যবস্থা মাদানী নেসাবের অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে বিভিন্ন মাদরাসায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
উত্তরায় আলোচিত আরেক মাদ্রাসা দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়াহ। ২০১৯ সালে গড়ে উঠা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত এই মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ায় অল্প সময়েই দেশব্যাপী পরিচিতি অর্জন করেছে মাদরাসাটি। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার শেখ সানাউল্লাহ আযহারী। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কওমী মাদরাসার মুআদালা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
বর্তমানে এই মাদরাসার শতাধিক শিক্ষার্থী মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে। প্রতি বছর প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।
উত্তরায় ইসলামী শিক্ষার প্রসারে যেসব মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মারকাযুল কুরআন ঢাকা। ২০১৭ সালে উত্তরার পার্শ্ববর্তী উত্তরখানে যাত্রা শুরুর পর ২০২২ সালে বেফাক বোর্ডের মেশকাত জামাতে প্রথম স্থান এবং ২০২৩ সালে দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে মাদ্রাসাটি আলোচনায় উঠে আসে।
মারকাযুল কুরআন ঢাকা প্রতিষ্ঠা করেন মাওলানা মাহবুবুর রহমান (নাজেম হুজুর)। তিনি মাদানী নেসাবের মূল উৎস মাদরাসাতুল মদিনায় দীর্ঘ ২৩ বছর শিক্ষাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে এই ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বেফাক ও আল-হাইয়্যা কেন্দ্রীয় বোর্ডের পরীক্ষায় উত্তরার অন্যান্য মাদরাসার তুলনায় অভাবনীয় ফলাফল অর্জন করে আসছে। এর ফলে উত্তরা সহ সারা দেশে এটি আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।