বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
আবার যুদ্ধ হলে ‘শত্রুর বাকি সম্পদ চূর্ণবিচূর্ণ’ করে দেব: আইআরজিসি মন্ত্রীর নিষেধ সত্ত্বেও পরীক্ষার হলে এমপি, করলেন ফেসবুক লাইভ চুনারুঘাটে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মাদ্রাসাপড়ুয়া দুই শিশু শিক্ষার্থী উদ্ধার মা হারা কন্যার বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি, আবেগাপ্লুত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ ঐকমত্য কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে বিলম্বিত করা ২৩ বছর পর মালিককে জমির দখল বুঝিয়ে দিলেন আদালত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের বেতন কত, কী কী সুবিধা পান দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা হাওড়ে বন্যার শঙ্কায় দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ পাউবোর বাঁচানো গেল না হাম আক্রান্ত শিশু সাদমানকে, মরদেহ নিয়ে ফেরার ছবি ভাইরাল

সরকারি কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংস্কার

অনলাইন ডেক্স রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য উদ্ভাবিত ‘তাৎক্ষণিক ব্যয় পরিশোধ (ক্যাশলেস)’ ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বাস্তবায়ন ও সুপারিশ প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই মডেল ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এ উপস্থাপন করা হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ে সীমিত পরিসরে এর বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে।

উচ্চপর্যায়ের সচিবদের উপস্থিতিতে মডেলটি জাতীয় পে কমিশন-২০২৫-এ উপস্থাপন করা হয়েছে। সংস্কারটির মূল প্রণেতা আব্দুল হামিদের পরামর্শে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমিতি স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (পরিচালনা ও নির্দেশিকা-২০২৫) অনুমোদন করে ক্ষুদ্র পরিসরে বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে।

 

  • কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাইলট কার্যক্রম শুরু

    জাতীয় গেজেটের অপেক্ষায় লাখো জনবল

 

পে কমিশনে উপস্থাপন ও উচ্চপর্যায়ের সমর্থন

বিদ্যমান চিকিৎসাপরবর্তী বিল জমা দিয়ে অনুদান পাওয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও আর্থিক জটিলতা নিরসনে, বাংলাদেশ কর্মচারীকল্যাণ বোর্ড এবং সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো তৈরির প্রস্তাব এখন জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশমালা তৈরির প্রক্রিয়ায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ কর্তৃক প্রণীত এই সংস্কারে ‘তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ (ক্যাশলেস)’ এবং ‘ইউনিক হেলথ আইডি’ চালুর কথা বলা হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কমিশনের সভায় এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন।

সূত্র জানায়, কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সচিবগণও উপস্থিত ছিলেন। তারা এ মানবিক সংস্কারের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা করেন। উচ্চপর্যায়ের এ প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন এ উদ্ভাবনী সংস্কারের জাতীয় সুপারিশমালায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

তহবিলের সক্ষমতা ও বিদ্যমান ব্যবস্থা

প্রস্তাবিত এ সংস্কারে সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি স্বনির্ভর স্বাস্থ্য তহবিল পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ কর্মচারীকল্যাণ বোর্ডে সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা থেকে জমা হওয়া প্রায় হাজার কোটি টাকার একটি স্থিতিশীল তহবিল রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কল্যাণ বোর্ডের এই বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা এবং কর্মচারীদের নিয়মিত কন্ট্রিবিউশন থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করেই সরকারের ওপর কোনো বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে এই ক্যাশলেস সেবা অনায়াসে পরিচালনা করা সম্ভব। অর্থাৎ, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন করে কোনো সরকারি বরাদ্দের প্রয়োজন নেই, বরং বিদ্যমান খাতের সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি সচল রাখা যাবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ে নীতিমালা অনুমোদন ও কার্যক্রম

এই উদ্ভাবনী সংস্কারটি এখন ক্ষুদ্র পরিসরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। এবছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আব্দুল হামিদের প্রণীত তাৎক্ষণিক ব্যয় ও প্রশাসনিক সহযোগিতায় স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পরিচালনা ও নির্দেশিকা ২০২৫ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়। অনুমোদিত এই নতুন নির্দেশিকার আওতায় কৃষি পরিবারের সদস্যরা বেশ কিছু অনন্য সুবিধা পাবেন।

বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর যান্ত্রিক জীবনে জরুরি অসুস্থতা বা দুর্ঘটনায় আত্মীয়স্বজনের অনুপস্থিতিতে সদস্যদের তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এই কর্মসূচির অধীনে ক্যানসারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের জন্য জরুরি আর্থিক অনুদান এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনে নিঃশর্ত ও সুদবিহীন চিকিৎসা ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সদস্যদের মৃত্যুজনিত পরিস্থিতিতে মৃতদেহ পরিবহন ও সৎকারে তাৎক্ষণিক আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা হবে। জোনভিত্তিক বিশেষ কমিটির মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত ফলোআপের পাশাপাশি জরুরি রক্তদাতা ব্যবস্থাপনা ও মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিংয়ের মতো মানবিক সেবাগুলোও এই নির্দেশিকার অন্তর্ভুক্ত।

সেতুবন্ধের নতুন প্রতিশ্রুতি ও অনুপ্রেরণা

অনুষ্ঠান শেষে সমিতির অনারারি সভাপতি ও যুগ্মসচিব ড. মো. মোকতার হোসেনের হাতে নীতিমালাটি হস্তান্তর করেন আব্দুল হামিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি (নির্বাহী) মো. সাদিকুর রহমান মিঞা, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।

কর্মসূচির পরামর্শক ও নির্দেশিকা প্রণয়নকারী আব্দুল হামিদ জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কৃষি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সেতুবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই সফল কার্যক্রম কেবল একটি উদ্যোগের শুরু নয়। বরং এটি অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের সহকর্মীদের বিপদে পাশে থাকার বিষয়ে একটি অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

সচেতন মহলের বিস্ময় ও জাতীয় পর্যায়ের স্থবিরতা

কৃষি মন্ত্রণালয়ে এ কর্মসূচি বড় কোনো বাজেট ছাড়াই সফলভাবে অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হওয়ায় সচেতন মহলের মনে নতুন এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আব্দুল হামিদের এ উদ্ভাবনী সংস্কার যদি একক মন্ত্রণালয়ের সাধারণ একটি সমিতির বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষুদ্র পরিসরে কার্যকর হতে পারে। তবে জাতীয় পর্যায়ের বাস্তবায়ন কেন থমকে আছে, তা জানা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি মন্ত্রণালয়ে এই সংস্কারের সফল প্রয়োগ মূলত জাতীয়পর্যায়ের আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতার বিপরীতে একটি ‘অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করেছে। মাঠপর্যায়ে যে উদ্যোগটি ইতোমধ্যে ফলপ্রসূ বলে প্রমাণিত হয়েছে। সেটি গেজেট আকারে প্রকাশিত না হওয়াকে অযুক্তিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর্থিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষার প্রত্যাশা

বর্তমানে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে অনেক সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারকে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়। প্রস্তাবিত এই ‘ইউনিক হেলথ আইডি’র মাধ্যমে সরাসরি অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু হলে কর্মচারীদের তাৎক্ষণিক নগদ অর্থের দুশ্চিন্তা থাকবে না এবং চিকিৎসার জন্য ঋণগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে তারা রেহাই পাবেন।

প্রত্যাশা ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সচিব সভার উচ্চপর্যায়ের সমর্থন এবং একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এটির সফল কার্যক্রম শুরু হওয়া এ যুগান্তকারী ধারণার দ্রুত জাতীয় বাস্তবায়নের পথ সুগম করেছে। দেশের সকল সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মিলে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের দীর্ঘশ্বাস দূর করতে এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবা খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102