সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:২০ অপরাহ্ন

এশিয়ার প্রথম ‘চিফ হিট অফিসার’ বুশরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ৫ মে, ২০২৩
  • ২২২ বার পঠিত

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ‘চিফ হিট অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলামের মেয়ে বুশরা আফরিন। তিনি বাংলাদেশসহ পুরো এশিয়ায় প্রথম চিফ হিট অফিসার (সিএইচও)।

এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে চরম তাপমাত্রা মোকাবেলার জন্য ইতোমধ্যে সিএইচও নারীদের স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন বুশরা আফরিন।

এক প্রতিক্রিয়ায় বুশরা বলেন, ”আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন শুনতাম মানুষ পড়াশোনা ও কাজের সুযোগের জন্য নিজ শহর ঢাকা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। আর এখন বিপজ্জনক তাপমাত্রার কারণে অনেকেই এ শহর ছাড়ছেন।”

আফরিন বলেন, ঢাকা আমার বাড়ি। কিন্তু অসহনীয় গরমের কারণে আমি আর নিজের শহরকে চিনতে পারছি না।

এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অনুভব করা দেশগুলোর মধ্যে একটি বাংলাদেশ। গত মাসে তাপপ্রবাহের সময় ঢাকায় তাপমাত্রা ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পৌঁছে, যা ছয় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

২০২১ সালের বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ তাপপ্রবাহের স্থায়ী অবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

জানা গেছে, বুশরা আফরিন প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঢাকা উত্তরকে নিরাপদ করার জন্য নেতৃত্বে দেবে। তাপমাত্রা কমাতে তিনি শহরব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন। এছাড়া তিনি ঢাকা উত্তরের জনগণের মধ্যে তাপ সচেতনতা বৃদ্ধি, সুরক্ষা প্রচেষ্টা ত্বরান্বিতকরণসহ নতুন নতুন কাজ করবেন।

এ বিষয়ে বুশরা বলেন, ঢাকার তাপমাত্রা কমাতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেসব বিষয়ে আমি আরও বেশি ব্যস্ততা বাড়াতে চাই। সকল সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করতে চাই।

তিনি জানান, বিশ্বের সকল সিএইচওদের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ গ্রুপটিতে তিনি যুক্ত হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি সহকর্মী সিএইচওদের কাছ থেকে আরও অনেক কিছু শিখতে চান।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে চিফ হিট অফিসার নিয়োগ করে ‘আর্শট-রক’। স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা কাজ করে। ২০২১ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে প্রথম বারের মতো চিফ হিট অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।

তাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্য ১০০ কোটি মানুষকে দাবদাহমুক্ত করার। এই ধারণা পছন্দ হওয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস নগর কর্তৃপক্ষও সিএইচও নিয়োগ দিয়েছে। এর জন্য আলাদা তহবিলও বরাদ্দ করেছে তারা।

২০৩০ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন মানুষকে চরম তাপ থেকে আরও বেশি স্থিতিস্থাপক করে তোলা হচ্ছে অ্যাড্রিয়েন আরশট-রকফেলার ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য।

সংস্থাটি বলছে, তাপ একটি নীরব ঘাতক। যা অন্য যেকোনো জলবায়ু বিপর্যয়ের চেয়ে মানুষের জীবনের বেশি ক্ষতি করছে। বিশেষ করে বয়স্ক, ছোট্ট শিশু ও দরিদ্র মানুষেরা এ সংক্রান্ত ঝুঁকিতে বেশি রয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে গরম আবহাওয়াজনিত দিনের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। আর এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে নারীদের ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩
themesba-lates1749691102