চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর ৮ আগস্ট গঠিত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের পরিবেশ সংরক্ষণে গত এক বছরে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের গতিশীল নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় প্লাস্টিক ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বনভূমি সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পলিথিন নিষিদ্ধকরণ কার্যক্রমে গত বছরে ৭৪৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে হাজারো প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি টাকা জরিমানা আদায় এবং পলিথিন কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সচিবালয়কে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
পরিবেশগত সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে প্রায় ৫ হাজার একর জমি উদ্ধার এবং মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনসহ বিভিন্ন পরিবেশগত হটস্পটে সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা, অবৈধ ইটভাটা ভাঙা, বায়ুদূষণ কমাতে ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট’ প্রবর্তনসহ পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বন, বন্যপ্রাণী ও জলবায়ু সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধন ও বাস্তবায়নে অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়েছে।
এই এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যক্রম দেশের জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং পরিবেশবান্ধব নীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে সাসটেইনেবল উন্নয়নের পথ সুগম করেছে।