নাটোরের বড়াইগ্রামে পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় ভাঙচুর করে মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পৌর এলাকার মৌখাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন কার্যালয়টির কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা (৭৫)। বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা উপজেলার মৌখাড়া এলাকার বাসিন্দা ও বড়াইগ্রাম পৌরসভা ও বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা অভিযোগ করেন, ২০০৪ সালের জেলা প্রসাশকের কার্যালয় থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে বড়াইগ্রাম পৌরসভা ও বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের ‘মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়’ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। যা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বড়াইগ্রাম পৌর ও ইউনিয়ন কার্যালয়।
আমি সেসময় থেকে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। গত বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞরাতনামা কিছু ব্যাক্তি উপজেলার মৌখাড়া বাজারস্থ অফিস কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তারা অফিস থেকে তিনটি কাঠের জানালাসহ লোহার গ্রীল, ১৪টি প্যাস্টিকের চেয়ার, টেবিল, লোহার গদিযুক্ত চেয়ার, আলমারি ও মুক্তিযোদ্ধাদা সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
তার তৈরি করা দল ক্ষতায় থাকাবস্থায় এই ধরনের কর্মকান্ড মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই ঘটনার জড়িত ব্যাক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।
কার্যালয়ের পাশের চায়ের দোকানদান নিজাম উদ্দিন বলেন, এই অফিসের সামনে অনেক বছর যাবত চায়ের দোকান করি। মুক্তিযোদ্ধারা এই ব্যবহার করে থাকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাই।
শুক্রবার সকালে এসে দেখি অফিস ভাঙ্গা এবং মালামাল নিয়ে গেছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান বলেন, অনেক বছর যাবত মুক্তিযোদ্ধারা এই অফিসে বসেন। স্বাধীন দেশে এই ধরনের কর্মকান্ডের বিচার দাবি করছি। এই পরিস্থিতি দেখার জন্য কি আমরা দেশ স্বাধীন করে ছিলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (পদধিকার বলে) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।