শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
কেউ ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করা হবে হত্যার আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, যা দেখা গেল ভিডিও ফুটেজে রাজধানীতে প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চক্ষু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকায় নেই ঢাকা ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা চায় : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযোদ্ধাদের নিখুঁত তালিকা প্রণয়ন করা হবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে অস্ট্রেলিয়া তহবিল ও পরিধি বাড়ানোর আহ্বান: পোশাক খাতের টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাথে বিজিএমইএ এর বৈঠক

হত্যার আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, যা দেখা গেল ভিডিও ফুটেজে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। সিসিটিভি ক্যামেরার তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের চলাচলের ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার হোটেল নূরজাহানে সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। বাসটি কক্সবাজার থেকে ফিরছিল। এরপর হোটেলের পাশের খাবার দোকান ও পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় সে। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে।

এ সময় দোকানিকে তাকে কিছু একটা দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায়।
ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ১২টার দিকে দোকানের সামনে কিছু একটা দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমীন কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর তাজমিন কোথায় গিয়েছিল, কারও সঙ্গে দেখা হয়েছিল কি না এবং জব্দ করা মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে সামান্য দূরে পড়ে থাকা ওই সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির সঙ্গে তার সম্পর্ক- এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থলে মিলেছে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে এলোমেলো হয়ে আছে ধানগাছ।

পাশে পড়ে ছিল একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা।
স্থানীয়দের ধারণা, প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করেছিল তাজমিন। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সরেজমিন দেখা যায়, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে গেছে একটি নির্জন পাকা সড়ক। সড়কের দুপাশে বিস্তৃত ফসলি জমি। সড়কের মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন রয়েছে। ধানগাছগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। সড়কের এক পাশে ধানক্ষেতে পড়ে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। পরে স্থানীয়রা সেটি টেনে সড়কের ওপর তোলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, সকালে আশেপাশের মানুষদের কাছে শুনতে পাই ধানক্ষেতে একটি সিএনজি পড়ে আছে। খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ঘটনা সত্য। সিএনজিটির ২০ থেকে ৩০ গজ দূরেই দেখতে পাই একটি ভেনেটি ব্যাগ। আশপাশের ধানক্ষেতগুলোতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখতে পাই। সেই চিহ্ন অনুসরণ করে একটু সামনে গিয়ে দেখেন ধানক্ষেতে অজ্ঞাত নারীর লাশ পড়ে আছে। মরদেহের মাথা কাদায় গাড়ানো ছিল। পুরো শরীর বস্ত্রহীন। গলায় গামছা প্যাঁচানো। পরে যখন দেখলাম দলে দলে মানুষ আসছে দেখার জন্য, তখন একটি গামছা দিয়ে নগ্ন শরীর ঢেকে দিই। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে ঘটনার খবর জানাই। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।

জহিরুল ইসলাম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ধানক্ষেতের দিকে তাকালেই বুঝা যায়, যারা মেয়েটিকে মেরেছে অনেক কষ্ট দিয়েছে। দস্তা দস্তির আলামত দেখা যাচ্ছে। নরপশুদের কাছ থেকে জীবন রক্ষা করতে অনেক চেষ্টা করেছিল। শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেনি। এদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, ৪ দিন আগে (৪ অক্টোবর) তার একমাত্র মেয়ে তাজমিন কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্সের ধানমন্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়। পরে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় তাজমিন। রাতে তার বাবা আবদুল আলীম মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন। কিন্তু কল রিসিভ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে তার মেয়ে মোবাইলে মেসেজ এবং ‘লাইভ লোকেশন’ (ওই সময় মেয়েটির অবস্থান যেখানে ছিল) পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে। তিনি বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম। পরে সকালে মেসেজ দেখি। তারপর লাইভ লোকেশনে এসে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে দেখতে পাই।’

তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, আমি তাকে দীর্ঘদিন পড়িয়েছি। সে খুবই চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা কিছুটা অসুস্থ থাকায় দুই যমজ ভাইয়ের দেখভাল করত তাজমিন। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এ কারণে তার বাবা সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতেন। তবে বাবা তাজমিনকে খুব আদর করতেন। ঘরে রাগ হলে সে হুটহাট করে বাসা থেকে বের হয়ে যেত। তিনিও এই হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে আসে, গত ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর ওই কিশোরী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লা এসে পরে সে কক্সবাজারে যায়। বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে উঠে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে এসব স্থানে তার সঙ্গে কেউ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে বলে পুলিশ জানায়।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রথমে মরদেহটি অজ্ঞাত ছিল। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ ফেরদৌস বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সিএনজি চালিত অটোরিকশাটি রেজিস্ট্রেশনকৃত। আমরা সেটির সূত্র ধরে এগোচ্ছি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। আশা করি, রহস্য উদ্ঘাটন হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল৷ তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করছেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

এই ঘটনায় ঘটনার পর নিহত তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102