খুলনায় শিশুদের মধ্যে হাম নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ভ্যাকসিন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে অবস্থিত নগর স্বাস্থ্য ভবনে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় আয়োজিত এক অ্যাডভোকেসি সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, টিকা প্রদানে ধারাবাহিকতার ঘাটতির কারণে খুলনায় হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তবে সভায় প্রশাসকের দেওয়া ২৫ শিশুর মৃত্যুর তথ্যটি তার বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চলমান জাতীয় হাম নজরদারি ব্যবস্থায় নিশ্চিত হাম এবং হামসদৃশ উপসর্গের তথ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয়ভাবে আলোচিত মৃত্যুর সংখ্যা ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সরকারি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে।
সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া হলে হামসহ টিকাপ্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ কারণে টিকা গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলা না করে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, সভায় জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এইচপিভি ভ্যাকসিনকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় আনার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। কেসিসির এ সভায় নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থার সঙ্গে এই টিকা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা জানান, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও সচেতনতার অভাব ও সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অনেক নারী এ রোগে আক্রান্ত হন। তাই কিশোরী ও অভিভাবকদের মধ্যে এইচপিভি টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. আশরাফ আলী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শেখ মো. নুরুল ইসলাম, ইমাম পরিষদ-খুলনার সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়াএবং ইউনিসেফ খুলনার ইপিআই স্পেশালিস্ট তাপস কুমার বিশ্বাস।
সভা পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম। এতে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ধর্মীয় নেতারা অংশ নেন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে খুলনা বিভাগে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। তখন বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাবে ১৫ মার্চ থেকে ৭৫২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি এবং ৫১টি নিশ্চিত হাম শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল; ওই সময়ে নয় শিশুর মৃত্যুর তথ্যও দেওয়া হয়েছিল।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি যেসব শিশু নির্ধারিত টিকা পায়নি, তাদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।