গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদে ফুটবল উদ্ধারে গিয়ে স্রোতের পানিতে ডুবে আবির হোসেন ইউনুস (১০) ও নিরব (৯) নামে দুই শিশু নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ দুই শিশুকে উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বুধবার বিকেলে টঙ্গীর জামাই বাজার রেলওয়ে ব্রিজের নিচে নদীর তীরে খোলা জায়গায় কয়েকজন শিশু ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে ফুটবলটি তুরাগ নদে পড়ে যায়। তখন ফুটবল উদ্ধারের জন্য একজন শিশু নদীতে নামলে সে স্রোতের পানিতে ডুবে যেতে থাকে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে অপর শিশুটিও পানিতে নেমে যায়। একপর্যায়ে স্রোতের টানে দুজনই নিখোঁজ হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জানান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হলেও নিখোঁজ দুই শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আলোর স্বল্পতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে রাতের অভিযান স্থগিত করা হয়।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম জানান, বুধবার রাতে আলোর স্বল্পতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডুবুরি দল পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এদিকে দুই শিশুর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে তুরাগ নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। বুধবার রাত থেকেই ঘটনাস্থলে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্তও নদীর তীরে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। নিখোঁজ শিশুদের স্বজনরা নদীর তীরে অপেক্ষা করছেন এবং তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান, তুরাগ নদে এ সময় স্রোত ও পানির গভীরতা অনেক জায়গায় বেশি থাকায় শিশুদের নদীতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারা নদীর তীরবর্তী এলাকায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবার দুপুরেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তুরাগ নদে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নদীর বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ দুই শিশুকে দ্রুত জীবিত অথবা তাদের সন্ধান পাওয়ার আশায় নদীর তীরে অপেক্ষা করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।