খুলনার দাকোপ উপজেলায় অসহায়, দরিদ্র ও চিকিৎসাসেবাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করেছেন দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কে এম আশরাফুল আলম নান্নু। এ উপলক্ষে বাজুয়া এস.এন কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিতব্য চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের প্রচারণায় বাজুয়া বাজারের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাজুয়া বাজারের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্যাম্পের লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় আশরাফুল আলম নান্নু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিনামূল্যের এ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত, বাজুয়া এস.এন কলেজ প্রাঙ্গণে এ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাম্পে রোগীদের চোখ পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, চোখের ছানি শনাক্তকরণ এবং শিশুদের চোখের বিভিন্ন সমস্যায় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। বাছাইকৃত দরিদ্র ছানি রোগীদের বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থাও থাকবে। অপারেশনের জন্য নির্বাচিত রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, অপারেশন-পরবর্তী ওষুধ ও কালো চশমা দেওয়ার কথাও প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিফলেট বিতরণকালে আশরাফুল আলম নান্নু বলেন, “আমি চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য এখানে আসিনি। আমি সব সময় মানুষের সেবা করতে চাই। বিগত দিনগুলোতে খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ঠিক তেমনি দাকোপের মানুষের পাশে থেকেও সেবা করতে চাই।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দুই দিনের দুনিয়া—আজকে আছি, কালকে নাও থাকতে পারি। কিন্তু যতদিন আছি, ততদিন মানুষের সেবা করতে চাই।”
দাকোপের উন্নয়ন প্রসঙ্গে নান্নু বলেন, তিনি এ এলাকারই সন্তান। নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দাকোপে টেকসই বেড়িবাঁধ, উন্নত চিকিৎসাসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি চাই দাকোপের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাক, যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হোক এবং নদীভাঙন ও দুর্যোগ থেকে মানুষ নিরাপদ থাকুক।”
এ সময় দাকোপ উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আশরাফুল আলম নান্নু এর আগেও খুলনা অঞ্চলে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে।