শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

দুধ চা খেলে কি শরীরে দুধের ঘাটতি পূরণ হয়?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সকালে ঘুম থেকে উঠার পর অনেকেরই অভ্যাস এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা খাওয়ার । কেউ কেউ আবার ঘন দুধের চা ছাড়া খেতে পারেন না। যারা দুধের গন্ধ সহ্য করতে না পেরে এক গ্লাস দুধ ছুঁয়েও দেখেন না, তাঁদের অনেকেই দিনে তিন-চার কাপ দুধ চা খেয়ে নেন। মনে মনে ভাবেন চায়ের সঙ্গে দুধের ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনটাও শরীরে পৌঁছে গেল! কিন্তু প্রশ্ন হল, চা পাতার সঙ্গে দুধ ফুটলে কি দুধের পুষ্টিগুণ আদৌ ছিক থাকে? ‘টিভিনাইনে’র এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে নানা তথ্য।

অনেকের ধারণা, দুধের সঙ্গে পানি ও চা পাতা ফুটলে দুধের সমস্ত গুণ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধের ক্যালসিয়াম বা পটাশিয়ামের মতো মৌলিক খনিজ উপাদানগুলি তাপে চলে যায় না ঠিকই, তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

গবেষণায় যা দেখা গেছে

ক্যালসিয়াম শোষণ ব্যাহত হয়: দুধে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, চা পাতায় উচ্চমাত্রায় ‘ট্যানিন’ এবং ‘অক্সালেট’থাকায় দুধের ক্যালসিয়ামের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় যৌগ তৈরি করে। ফলে দুধে ক্যালসিয়াম মজুত থাকা সত্ত্বেও শরীর তা কার্যকরভাবে শোষণ করতে পারে না।

ভিটামিনের অপচয়: দুধে ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন ডি থাকে, যা স্নায়ুকে চাঙ্গা রাখতে এবং অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে। কিন্তু চা তৈরি করতে দুধ, চা পাতা ও চিনি একসঙ্গে যেভাবে দীর্ঘক্ষণ টগবগ করে ফোটানো হয়, তাতে তাপে ভিটামিন বি১২-এর মতো সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদানগুলি অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।

প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের লড়াই: চায়ে ক্যাটেচিন জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, আর দুধে কেসিন প্রোটিন রয়েছে। ইউরোপীয় গবেষকদের একাংশের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, দুধের কেসিন প্রোটিন চায়ের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এই জটিল সংমিশ্রণ প্রোটিন হজমেও বাধা সৃষ্টি করে।

হজমে সমস্যা ও গ্যাস: চা পাতায় থাকা ক্যাফেইন ও ট্যানিনের সঙ্গে দুধের ফ্যাট মিশে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে খালি পেটে দুধ চা খেলে বুকজ্বালা, অম্বল ও পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ে। যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, দুধ চা মূলত স্বাদের জন্য, দুধের ঘাটতি মেটানোর জন্য নয়। দুধের খাঁটি প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের উপকার পেতে হলে দুধ আলাদাভাবে পান করাই ভালো। আর চায়ের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের পূর্ণ সুফল পেতে লিকার চা বা গ্রিন টি-ই হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102