নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন ২০২৬-এ অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এডাস্ট) জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জীবনীভিত্তিক ডকুফিল্ম সিরিজ ‘কাগজের মানুষ’ প্রদর্শিত হয়েছে।
গত ৯ থেকে ১২ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—“সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য আদিবাসী ভাষার সাংবাদিকতা।”
সম্মেলনে এডাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এম শামসুল আলম লিটনের নির্বাহী প্রযোজনায় এবং জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ফরহাদ আলমের গবেষণা পরিকল্পনা ও পরিচালনায় নির্মিত বাংলাদেশের প্রবীণ ও বিশিষ্ট সাংবাদিকদের জীবন ও কর্মভিত্তিক ডকুফিল্ম সিরিজ ‘কাগজের মানুষ’ প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় গবেষণা পরিকল্পনাকারী ও নির্মাতা ফরহাদ আলম তাঁর বক্তব্যে ‘কাগজের মানুষ’ ডকুফিল্ম সিরিজের বিষয়বস্তু ওপর আলোকপাত করেন।
সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টি দেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা ডকুফিল্ম সিরিজটি নিয়ে নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। তাঁদের আলোচনায় ‘কাগজের মানুষ’-এর বিষয়বস্তু, নির্মাণশৈলী এবং সাংবাদিকতার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এর গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে ‘কাগজের মানুষ’ ডকুফিল্ম সিরিজটি বিশ্বপরিসরে ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়।
অনুষ্ঠানে এডাস্টের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের কো-অর্ডিনেটর জোবায়ের আহমেদ পেপার পেজেন্ট করেন এবং প্রভাষক কেয়া বোস প্যানেলিস্ট হিসাবে আলোকপাত করেন।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের জীবন, সংগ্রাম ও পেশাগত অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে নির্মিত হচ্ছে ‘কাগজের মানুষ’ ডকুফিল্ম সিরিজ। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে ডকুফিল্মটির প্রদর্শনী বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাস ও গণমাধ্যমচর্চাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তৃতীয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে আদিবাসী ভাষার সাংবাদিকতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।