মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালিতে আবারও তেলবাহী জাহাজে হামলা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ওই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় দুইটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র দিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামলায় দুইটি বাণিজ্যিক জাহাজ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম এই জ্বালানি পরিবহন পথে নতুন করে হামলা হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতের এই হামলা ছিল বেশ আকস্মিক।

ব্রিটেনের ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ জানিয়েছে, ওমানের লিমা থেকে আট নটিক্যাল মাইল পূর্বে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর (ক্ষেপণাস্ত্র) আঘাত লাগে। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাহাজের বাঁ পাশে আঘাত করলে সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে বড় কোনো পরিবেশগত ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এর দায় স্বীকার করেনি।

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই হামলার পেছনে ইরানের দিকেই সন্দেহের আঙুল তোলা হচ্ছে।
কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শত্রুতার অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু এই হামলা সেই চুক্তির স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড সতর্ক করেছিল, নির্ধারিত সামুদ্রিক পথ বা করিডর না মেনে চললে যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই জলপথে মার্কিন বাহিনীর যেকোনো হস্তক্ষেপের চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।

একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিন বিনা ট্যাক্সে জাহাজ চলাচলের নিয়ম থাকলেও, ইরান চাচ্ছে পরবর্তী সময়ে জাহাজগুলোর গতিপথ তারা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং যাতায়াতের জন্য ট্যাক্স আদায় করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো ইরানের এই দাবি মানতে নারাজ।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল) এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সারা বিশ্বে সরবরাহ করা হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক এই হামলার ঝুঁকির মধ্যেও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকে তেল নিয়ে জাপানি মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি ‘সুপারট্যাংকার’ এই প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছে। এর থেকে বোঝা যায়, চড়া ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি রপ্তানিকারক ও জাহাজ কম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102