সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বরেণ্য কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক হাসান হাফিজুর রহমানের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০:০০ ঘটিকায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ্ কানিজ মওলা।
স্মরণসভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবির কন্যা মিজ্ এষা হাসান। তিনি কবির ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক স্মৃতি এবং তাঁর সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বিশিষ্ট কবি মজিদ মাহমুদ হাসান হাফিজুর রহমানের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও চিন্তাজগতের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব মিজ্ কানিজ মওলা বলেন, সব কবি রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হতে পারেন না; কিন্তু হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি সাহিত্য সৃষ্টির পাশাপাশি রাষ্ট্রচিন্তা ও সমাজ নির্মাণের ক্ষেত্রেও অসামান্য অবদান রেখেছেন।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়া, ধর্ম, ইতিহাস ও সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে হাসান হাফিজুর রহমানের গভীর অনুধাবন তাঁর চিন্তাজগৎকে সমৃদ্ধ করেছিল। তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে দূরদর্শী ভাবনা তাঁকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
সংস্কৃতি সচিব তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে হাসান হাফিজুর রহমানের বুদ্ধিবৃত্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, কবির চিন্তা ও পরামর্শ তৎকালীন রাষ্ট্রীয় নীতি-ভাবনায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় ও কৃত্রিমতার প্রভাব ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। হাসান হাফিজুর রহমানের সময়ের যে সৃজনশীল, আদর্শিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ ছিল, তা আমাদের জন্য আজও অনুকরণীয়।
মিজ্ কানিজ মওলা বলেন, এই স্মরণসভার মাধ্যমে কবির জীবন ও কর্মের অনেক নতুন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, আমার প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান থেকে হাসান হাফিজুর রহমানের সমাজভাবনা ও রাষ্ট্রচিন্তাকে জাতীয় পর্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি দেশের গবেষক, সাহিত্যিক ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাসান হাফিজুর রহমানের রাষ্ট্রভাবনা, সাহিত্যদর্শন ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান নিয়ে আরও গবেষণা ও লেখালেখি প্রয়োজন। তাঁর অনন্য সাহিত্যকীর্তি ও চিন্তার উত্তরাধিকারকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে যাবে।