ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করতে হবে। বনের উপর আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিকল্প জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।’অনুষ্ঠানে ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘বৃক্ষনিধন ও বন উজাড়ের কারণে মাটিক্ষয়, ভূমিধস, জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস, প্রাকৃতিক আবাসস্থল নষ্ট এবং পরিবেশগত অবক্ষয় ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বনভূমি সংকুচিত হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ছে এবং এক বছরে বৃক্ষনিধন ৭১ শতাংশ কমেছে। সরকার বৃক্ষনিধন বন্ধের পাশাপাশি ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের উদ্যোগ নিয়েছে।’বৃক্ষনিধন বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘বৃক্ষনিধন বন্ধসহ পরিবেশ সুরক্ষায় আইন ও নীতিমালা থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন কার্যকর করা গেলে বৃক্ষনিধন অনেকটাই কমে আসবে।’ পরিবেশগত অপরাধ দমনে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি তা সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে, এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে কোথায় কোন গাছ লাগাতে হবে, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে।’ পরিবেশ আদালত আইনসহ সব আইন ও নীতিমালা কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
আরডিআরসি’র গবেষক শুভাষীস দাস শুভ জানান, আরডিআরসি ২০২৩ সাল থেকে দেশে বৃক্ষনিধন ও বন উজাড় নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা ও মিডিয়া মনিটরিং রিপোর্ট করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত এক বছরে বাংলাদেশে সংঘটিত বৃক্ষনিধন ও বন উজাড়ের চিত্র তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।