শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে লাল মিয়া নামের রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ডা. মো. নাসির ইসলাম। তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুর ১টায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত নয়জন।
আহত অন্যরা হলেন- নিরাপত্তা কর্মী সোহেল মিয়া (৩৪), আজিজুল রহমান (২৮), মোশারফ হোসেন (৪৫), জাহিদ মিয়া (৪১), সাইফুল ইসলামসহ (৫১) ১০ জন।
হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী সোহেল মিয়া, আজিজুল রহমান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত ১টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিলাশ খান এলাকার হামেদ কাজীর ছেলে লাল মিয়া কাজী নামের এক হৃদরোগের রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকা নিতে বলেন চিকিৎসকরা। এরপরও অঙ্গীকার নামা দিয়ে ওই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর ওই রোগীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনা নিয়ে রোগীর স্বজন ও কর্মচারীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ডা. নাসিরকে ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেতলে দেয়। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত নাসিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে শনিবার দুপুর ১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পালং মডেল থানা পুলিশ আল আমিন নামের একজনকে আটক করেছে।
খবর পেয়ে শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ও পুলিশ সুপার রওনক জাহান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিতু আক্তার বলেন, আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
শরীয়তপুর পুলিশ সুপার রওকন জাহান বলেন, ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অপরাধীকে শনাক্ত করতে পেরেছি। তাকে আটক করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ডা. নাসিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিষয়টি আমরা দেখছি।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহম্মেদ আসলাম বলেন, রোগীর জীবন বাঁচানো ডাক্তারের কাজ। তার গায়ে হাত তুলেছে। এটা দুঃখজনক।
এ জাতীয় আরো খবর..