বরিশালের গৌরনদীতে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) অপহরণ করে ১২ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগে ৪ জনকে আসামি করে গৌরনদী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাগুরা গ্রামের ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের খালকুলা গ্রামের ভগরত ঢালী, মেঘা বাড়ৈ ও তার স্বামী রাজু ঢালী, গৌরনদীর দক্ষিণ মাগুরা গ্রামের কমল বাড়ৈ।
ভিকটিম জানায়, একই বাড়ির চাচাতো বোন মেঘা বাড়ৈ ফুসলিয়ে তাকে গত ২৬ এপ্রিল তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে বিবাহিত ভগরত ঢালীর সঙ্গে তাকে (স্কুলছাত্রী) জোরপূর্বক বিয়ে দেয় মেঘা ও তার স্বামী রাজু ঢালী। পরবর্তীতে ভগরত ঢালী তার (ছাত্রী) ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ১২ দিন আটকে রেখে নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে ভগরত ঢালী।
ভিকটিমের বাবা অভিযোগ করে বলেন, গত ২৬ এপ্রিল রাতে আমার মেয়ে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ২৭ এপ্রিল গৌরনদী থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। বুধবার (৬ মে) জানতে পারি আমার মেয়েকে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের খালকুলা এলাকায় আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করে মেয়েকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে এসেছি। মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর জানতে পারি, একই বাড়ির কমল বাড়ৈর কন্যা মেঘা বাড়ৈ আমার শিশু মেয়েকে ফুসলিয়ে মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের খালকুলার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমাদের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে আমার মেয়েকে ভগরতের (৩৮) সঙ্গে জোরপূর্বক বিয়ে দেয় মেঘা ও তার স্বামী রাজু ঢালী।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে ১২ দিন আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেঘা বাড়ৈ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই স্কুলছাত্রীকে আমরা বিয়ে দেইনি। সে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করেছে। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী থানার এসআই মো. জহিরুল হক বলেন, ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) অপহরণ করে ১২ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে গৌরনদী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে শুক্রবার সকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।