পুরোনো দিনের ধুলোমাখা স্মৃতি
ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় সময়ের স্রোতে,
শেষ হয়ে আসে সব হিসেব-নিকেশ;
হাসি-কান্নার অমলিন গল্পগুলো নীরবতায় লুপ্ত।
আবার, দিগন্তে উঠবে নতুন সূর্য,
নতুন আলোয় ভরে উঠবে প্রাণ,
বছরের প্রথম ভোরে
প্রকৃতি গেয়ে ওঠে পুনর্জন্মের গান।
এসেছে সাংগ্রেং;
রাখাইনদের হৃদয়ের রঙিন উৎসব,
জলের ছোঁয়ায় মুছে যায় ক্লান্তি,
ভেসে যায় সকল গ্লানি আর অবসাদ।
কিন্তু সবার আগে, পবিত্র প্রভাতে
নীরব ভক্তি নিয়ে সবার গন্তব্য বিহারে,
পরিবারের সবাই মিলিত হয়ে
শ্রদ্ধা জানায় বুদ্ধের শাশ্বত আদর্শে।
তারপর ভরা দুপুরে
সুগন্ধি চন্দন ও জামপাতার মিশ্রিত পবিত্র জলে
বুদ্ধ মূর্তিকে স্নান করানো হয় ভক্তিভরে,
প্রার্থনায় ভরে ওঠে চারদিক,
শান্তি, মৈত্রী আর কল্যাণের কামনায়।
বিহার-মন্দির জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে পবিত্রতা,
নির্মল হয় মন আর প্রাণ,
এই শ্রদ্ধা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়েই
শুরু হয় সাংগ্রেং উৎসবের শুভ গান।
তারপর শিশুদের হাসি, কিশোরদের উচ্ছ্বাস,
জলে মাতামাতি আনন্দের ঢেউ তোলে।
তরুণ-তরুণীর চোখে স্বপ্নের দীপ্তি
ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ে দিগন্তের কূলে কূলে।
জল উৎসবে একে অপরকে ভিজিয়ে
বিনিময় হয় শুভেচ্ছা, প্রেম আর প্রীতি,
এক ফোঁটা জলে লুকিয়ে থাকে
অগণিত অনুভবের নীরব, গভীর স্মৃতি।
জল নয়; এ যেন মৈত্রীর স্পর্শ,
প্রতিটি ফোঁটায় শান্তির আহ্বান;
মাথায়, হৃদয়ে, শরীরে মেখে
ডাকে নির্মল, পবিত্র জীবনের গান।
রাখাইন তরুণীরা মণ্ডপে দাঁড়িয়ে থাকে,
ঐতিহ্যের রঙিন সাজে অপরূপা,
আবেগভরা চাহনিতে নীল আকাশ ছুঁয়ে
স্বপ্ন বোনে, প্রেমময় এক নতুন সূচনা।
প্রিয়জন আসবে; এই মধুর প্রত্যাশায়
হৃদয় ভিজে ওঠে নিঃশব্দ আবেগে,
মৈত্রীর জলে জাগে ভালোবাসা;
নতুন দিনের আলো লাগে জীবনের রঙ্গে।
সাংগ্রেংয়ের সেই পবিত্র জলধারা
ধুয়ে দেয় সকল অমঙ্গল,
নতুন বছরের প্রথম প্রহরে
জাগে আশার অনন্ত আলো।
এসো, মিলিত হই, সাংগ্রেং এসেছে;
হাতে হাত ধরি সবাই,
পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে
নতুনকে করি হৃদয় ভরে বরণ।
জলের ছোঁয়ায়, ভালোবাসার ডাকে
গড়ে উঠুক সম্প্রীতি ও মানবতার নতুন প্রত্যয়,
রাখাইন সাংগ্রেং হোক
শুভযাত্রার চিরন্তন অমলিন জয়।