রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন

নাগলিঙ্গমের টানে শ্রীমঙ্গলে ভিড়

উত্তরা নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
এমনিতেই পরিচিতি চায়ের রাজধানী হিসেবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নাগলিঙ্গম। ফলে চা বাগানের জন্য যেমন দর্শনার্থীর ভিড়, তেমনি ভিড় নাগলিঙ্গমের জন্যও। লম্বা গাছের কাণ্ডজুড়ে নয়নাভিরাম ফুল; তার মন মাতানো গন্ধ ও অদ্ভুত গঠন প্রতিদিনই টানছে দর্শনার্থী।মৌলভীবাজারের দুটি স্থানে রয়েছে নাগলিঙ্গম। একটি শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) ক্যাম্পাস, অন্যটি মির্জাপুর ইউনিয়নের শহরশ্রী গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত নৌ-কর্মকর্তা দেওয়ান গউছউদ্দিন আহমদের বাড়ি। দুই জায়গায়ই গাছে ধরেছে  ফুল ও ফল। ফুলের যেমন সৌন্দর্য, তেমনি সুবাস।এ কারণে প্রতিদিন ভিড় জমছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।নাগলিঙ্গমের বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis। প্রায় তিন হাজার বছর আগে আমাজন জঙ্গলে এর সন্ধান মেলে। এর ইংরেজি নাম Cannonball tree।আর শিব কামান নামে পরিচিত ভারতে।নাগলিঙ্গম গাছের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এর ফুল ও ফল শাখা-প্রশাখায় নয়, সরাসরি কাণ্ডে জন্মায়। গাঢ় গোলাপি ও হালকা হলুদের মিশেলে ফুলগুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি এর সৌরভে মিশে থাকে গোলাপ ও পদ্মের ঘ্রাণ। ফুলের পরাগচক্র সাপের ফণা আকৃতির, যা একে আরো রহস্যময় করে তোলে।বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পুকুরপাড়ে থাকা বিশাল নাগলিঙ্গম গাছটি এখন ফুল ও ফলে ভরা।সকাল-বিকাল পুরো এলাকা ভরে উঠছে সুগন্ধে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা চা বাগানের সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিরল এই গাছ দেখেও মুগ্ধ।

জানা যায়, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন এই গাছটির চারা রোপণ করেন। তিন দশকে এটি বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে।

অন্যদিকে, শহরশ্রী গ্রামের একটি বাড়ির আঙিনায়ও একই দৃশ্য। গাছটির গোড়া থেকে কাণ্ডজুড়ে ফুটে থাকা ফুলে আধিপত্যে পাতা প্রায় দেখাই যায় না। কুঁড়ি থেকে পূর্ণ প্রস্ফুটন- সব ধাপেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য।

স্থানীয় দর্শনার্থীদের বক্তব্য, এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি তারা। গাছের কাণ্ডজুড়ে ফুল ফোটার বিরল দৃশ্য তাদের বিস্মিত করেছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা এই গাছের সামনে ছবি তুলতে ভিড় করছে।

লেখক এহসান বিন মুজাহিরের ভাষায়, ‘নাগলিঙ্গম আমাদের দেশে একটি বিরল প্রজাতির গাছ। এই ফুল সচরাচর চোখে পড়ে না, ফলে বেশিরভাগ মানুষের কাছেই এটি অপরিচিত। বসন্তকালে যেমন শিমুল গাছের নিচে ঝরে পড়া ফুলে চারপাশ ভরে ওঠে, তেমনি নাগলিঙ্গম গাছের তলাও তার অসংখ্য পাপড়িতে নান্দনিক দৃশ্য সৃষ্টি করে।

নাগলিঙ্গম গাছ আকারে বেশ বড়। এর কাণ্ড ফুঁড়ে বের হওয়া লম্বা, লতার মতো শাখাগুলোতে একসঙ্গে ফুটে ওঠে হাজারো কুঁড়ি। পরে  সেসব কুঁড়ি রূপ নেয় টকটকে লাল পলাশ কিংবা শিমুলের মতো দৃষ্টিনন্দন ফুলে, যা আকাশের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকে। ফুলের পাপড়ি ও রেণুর গঠন এতই আকর্ষণীয় যে তা সহজেই যে কারো দৃষ্টি কাড়ে।

স্থানীয়রা বলছে, শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে নাগলিঙ্গম গাছ যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। বিরল এই বৃক্ষ শুধু সৌন্দর্য নয়, বৈজ্ঞানিক ও ঔষধি গুরুত্বেও অনন্য। ফলে দিন দিন এটি হয়ে উঠছে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের নতুন আকর্ষণ। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড. ইসমাইল হোসেন বলেন, নাগলিঙ্গম বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় বিলুপ্তির পথে। এটি একটি দ্রুত বর্ধনশীল বৃক্ষ, যা ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। চারা রোপণের ১২-১৪ বছর পর গাছে ফুল আসে। গাছের কাণ্ড ভেদ করে বের হওয়া মঞ্জুরিতে একসঙ্গে ১০-২০টি ফুল ফোটে। একদিকে নতুন ফুল ফুটতে থাকে, অন্যদিকে ঝরে পড়ে পুরনো ফুল।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102