রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যার আমানতদারি নেই তার ঈমান নেই, যে অঙ্গীকার পূরণ করে না, তার দ্বিনদারি নেই।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১২৫৬৭)
৩. সহযোগিতার মানসিকতা থাকা : কর্মক্ষেত্রে মানুষ এমন কর্মীই পছন্দ করে যে অন্যকে সহযোগিতার মানসিকতা রাখে। যারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে, সক্ষমতা থাকার পরও অন্যকে সহযোগিতার জন্য অগ্রসর হয় না, তাদের কেউ পছন্দ করে না। আল্লাহ পরস্পরকে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘সৎকর্ম ও আল্লাহভীতিতে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২)
৫. দায়িত্বশীল হওয়া : একজন কর্মীর কাছে নিয়োগদাতার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা থাকে দায়িত্বশীল আচরণ। আর দায়িত্বশীল আচরণের অর্থ হলো নিজের কাজকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তা সঠিকভাবে সম্পন্ন করা। যে ব্যক্তি দায়িত্ব এড়িয়ে চলে, সে কখনো উন্নতি করতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৫৪)
৬. কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে চলা : যে কর্মী নিজের অগ্রগতি প্রত্যাশা করে সে কখনো নিজের যোগ্যতা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগে না, বরং সে সব সময় নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কেননা ব্যক্তির যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা না বাড়লে তার অগ্রগতি প্রত্যাশা করা হাস্যকর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন যে যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজ করে তখন তা সে যত্নের সঙ্গে করবে।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ১৮৬৭)
৭. গোপনীয়তা রক্ষা করা : অফিসের তথ্য বা ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারলে একজন কর্মীর ওপর থেকে আস্থা উঠে যায়। বিশ্বস্ততা বজায় রাখতে এই গুণ অপরিহার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলার পর আশপাশে তাকালে তার ওই কথা (শ্রবণকারীর জন্য) আমানত বলে গণ্য হবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৫৯)
৮. সুন্দর আচরণ : সুন্দর আচরণ কর্মক্ষেত্রকে আনন্দময় করে তোলে। হাসিমুখে কথা বলা সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে, যা কাজের পরিবেশ উন্নত করে এবং দলগত সফলতা বাড়ায়। আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমার হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে তোমার ভাইয়ের সামনে উপস্থিত হওয়া তোমার জন্য সদকাস্বরূপ।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৫৬)
৯. ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন : কর্মক্ষেত্রে নানা সমস্যা ও চাপ আসতেই পারে; এমন সময় ধৈর্য ও সংযম অত্যন্ত জরুরি। ধৈর্য না থাকলে মানুষ ভেঙে পড়ে আর সংযম না থাকলে সে অযাচিত কাজ করে বসে। ধৈর্যশীল ব্যক্তি প্রতিকূল অবস্থায়ও স্থির থাকে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা তাকে সফলতার দিকে নিয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৫৩)
১০. সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করা : কর্মক্ষেত্রে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপছন্দের ভিত্তিতে নৈকট্য ও দূরত্ব কখনো কখনো মানুষের জন্য বিপদের কারণ হয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘নিজের বন্ধুর সঙ্গে ভালোবাসার আধিক্য প্রদর্শন করবে না। হয়তো সে একদিন তোমার শত্রু হয়ে যাবে। তোমার শত্রুর সঙ্গেও শত্রুতার চরম সীমা প্রদর্শন করবে না। হয়তো সে একদিন তোমার বন্ধু হয়ে যাবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৯৭)
মহান আল্লাহ সবাইকে উল্লিখিত গুণাবলি নিজের মধ্যে ধারণ করার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে উন্নতি লাভের তাওফিক দিন। আমিন।