তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ফিতনা থেকে দূরে থাকবে, সেই সৌভাগ্যবান; যে লোক ফিতনা থেকে দূরে থাকবে সেই সৌভাগ্যবান; যে ফিতনা থেকে দূরে থাকবে সেই সৌভাগ্যবান। আর যে ব্যক্তি ফিতনায় পড়ে ধৈর্য ধারণ করবে, তার জন্য কতই না মঙ্গল। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪২৬৩)এই হাদিসে ‘ফিতনা’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যায় এবং মানুষ দ্বিধা, বিভ্রান্তি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তিনবার একই কথা পুনরাবৃত্তি করে ফিতনা থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।প্রথমত, ফিতনা থেকে দূরে থাকা মানে শুধু শারীরিকভাবে দূরে থাকা নয়; বরং এমন সব কাজ, কথা ও পরিবেশ থেকে নিজেকে বিরত রাখা, যা মানুষকে গুনাহ, অন্যায় বা বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়।দ্বিতীয়ত, সব সময় ফিতনা এড়িয়ে চলা সম্ভব নাও হতে পারে। কেউ যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে ফিতনায় জড়িয়ে পড়ে, তবে তার জন্য করণীয় হলো; ধৈর্য ধারণ করা, সত্যের ওপর অটল থাকা এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করা। হাদিসে এমন ব্যক্তির জন্য ‘কতই না মঙ্গল’ বলা হয়েছে, যা তার উচ্চ মর্যাদা ও পুরস্কারের ইঙ্গিত বহন করে।তৃতীয়ত, এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, ফিতনার সময় উত্তেজনা, তাড়াহুড়া বা আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত না নিয়ে, বরং ধীরস্থিরতা, আত্মসংযম এবং আল্লাহভীতির সঙ্গে চলাই একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতার পথ।সারসংক্ষেপে, ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকা সবচেয়ে বড় নিয়ামত; আর যদি তাতে আক্রান্ত হতে হয়, তবে ধৈর্য ও ঈমানের দৃঢ়তার মাধ্যমে তা মোকাবিলা করাই প্রকৃত সফলতার চাবিকাঠি।