মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
লেবাননে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইসরাইলের হামলা ভুয়া নথিতে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে বিমানের ৮ পাইলট তদন্তে দুর্গাপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনে জরিমানা ৪ হাজার ৩৬৪টি ইয়াবা নিয়ে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন সাইদুল, বিমানবন্দরে আটক ইরানের ইসফাহানে ২০০ কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে: গ্রোসি আয়রনম্যান মারিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আর্থিক পুরস্কার ও স্পন্সরশিপ প্রদান করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিজিএমইএ’তে শ্রমিক নেতাদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল: স্থিতিশীল শ্রম পরিবেশ বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ চোরাচালান, মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে দুর্গাপুরে মতবিনিময় সভা দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত। তুরাগবাসীর স্বস্তির জন্য আমি কাজ করছি: কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী চাঁন মিয়া

ভুয়া নথিতে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে বিমানের ৮ পাইলট তদন্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত ৮ পাইলটের বিরুদ্ধে ভুয়া উড্ডয়ন ঘণ্টা, জাল লগবুক ও তথ্য গোপনের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক গোপন অনুসন্ধানে কয়েকজন পাইলটের বিরুদ্ধে ভুয়া নথি ব্যবহার, জাল লগবুক তৈরি এবং উড্ডয়ন ঘণ্টা বাড়িয়ে দেখিয়ে বাণিজ্যিক ও পরিবহন পাইলট লাইসেন্স অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঘিরে সংস্থাটির অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কয়েকজন পাইলটের ক্ষেত্রে নির্ধারিত উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছাড়াই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ক্যাপ্টেন আব্দুর রহমান আকন্দের বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৫০ ঘণ্টা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা। অথচ তার লগবুকে পাওয়া গেছে মাত্র ১৫৪ দশমিক ৩৫ ঘণ্টা। প্রায় ৯৫ ঘণ্টা ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও তিনি কয়েক মাস ফ্লাইট পরিচালনা করেন।

ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস আহমেদের লাইসেন্সে একই উড্ডয়ন ঘণ্টা পাইলট ইন কমান্ড ও কো-পাইলট হিসেবে দুবার লিপিবদ্ধ করার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রায় ৩৫০ ঘণ্টার অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে।

এ ছাড়া ক্যাপ্টেন আনিসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ২০০ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ১৬২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়। ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাবের নথিতে পাইলট ইন কমান্ড উড্ডয়ন সময় ছিল মাত্র ৩৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, যা পরে জাল সনদের মাধ্যমে ১৫৫ ঘণ্টা দেখানো হয়। ক্যাপ্টেন নুরুদ্দিন আহমেদ, ইউসুফ মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, লাইসেন্স যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থাতেও গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। কিছু ফ্লাইট পরিদর্শকের বৈধ লাইসেন্স, শারীরিক সক্ষমতা ও সাম্প্রতিক উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তারা পাইলট যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে পুরো লাইসেন্সিং ব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছাড়া পাইলট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করলে জরুরি পরিস্থিতিতে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, অভিযোগ ওঠা লাইসেন্সগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102