বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:

বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে শক্ত লড়াইয়ের আভাস

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে দিন যত ঘনিয়ে আসছে,  দল দুটির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনাও তত বাড়ছে। আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে বের হয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই সুযোগটিকে কাজে লাগাচ্ছে বিএনপি।ফলে  নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করছে এ আসনের ভোটাররা।পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসনে  মোট ভোটার তিন লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক  লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৬৯ হাজার ৭৭৫ জন ও শিখণ্ডী সম্প্রদায় (হিজরা)-এর ভোটার চারজন।রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা-২ আসনে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।এঁরা হলেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম, দাড়িপাল্লা প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. সুলতান আহমদ, হাত পাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মো. মিজানুর রহমান, ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত মো. সাব্বির আহমেদ, কাঁঠাল প্রতীকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. কামরুজ্জামান লিটন, লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল লতিফ ফরাজী, সিংহ প্রতীকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) মনোনীত সৈয়দ মো. নাজেস আফরোজ, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি-এনপিপি মনোনীত মো. সোলায়মান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদ উদ জামান জাহাজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মো. নূরুল ইসলাম ইতোমধ্যে গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। স্থানীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানাবিধ বিষয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং ভোটারদের কাছে সমর্থন ভোট চাইছেন।নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘বরগুনা-২ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করব। মানুষের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে আমি সবসময় ছিলাম এবং থাকব।’এদিকে, বরগুনা-২ আসনে জয়ের রেকর্ড রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দলের প্রার্থী পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।কিন্তু স্থানীয়দের ধারণা এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী যখন বিএনপি তখন জামায়াত জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় ভোট ভাগ হয়ে যাবে। চরমোনাইয়ের ভোটকে ধরা হয়েছিল তাদের উভয়ের জয়ের নিয়ামক শক্তি হিসাবে।জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ইতোমধ্যে গণসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করছেন। সাধারণ ভোটারদের কাছে দোয়া চাইছেন এবং ভোট প্রাথর্না করছেন।এ ব্যাপারে বেতাগী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রভাষক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, দাড়িপাল্লা প্রতীকের ডা. সুলতান আহমদ এ আসনে নতুন কোনো মুখ নন। আর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এ আসনে সম্পূর্ণ নতুন এবং তার বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলায়। সুলতান আহমেদ ১৯৯১ সাল থেকে মানুষের পাশে রয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেতাগী উপজেলা সভাপতি মাওলানা মো. ইউসুফ আলী বলেন, বর্তমান প্রক্ষাপটে সঙ্গত কারণেই আগের তুলনায় সারা দেশের মতো এ আসনেও ইসলামী আন্দোলনের জনসমর্থন বেড়েছে এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। জনগণ সুষ্টুভাবে ভোট দিতে পারলে ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা প্রতীকে মুফতি মো. মিজানুর রহমান কাসেমী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102