এ ঘটনায় উগান্ডা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ববি ওয়াইন উগান্ডার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। জাতিসংঘ জানায়, এবারের নির্বাচন ছিল ব্যাপক দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মধ্যে অনুষ্ঠিত।
উগান্ডার বিরোধী নেতা ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ববি ওয়াইনকে জোর করে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার রাজনৈতিক দল। দলটির দাবি, তাকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ববি ওয়াইনের দল ন্যাশনাল ইউনিটি প্ল্যাটফর্ম (এনইউপি) শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানায়। এর একদিন আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এ ঘটনায় উগান্ডা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ববি ওয়াইন উগান্ডার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। জাতিসংঘ জানায়, এবারের নির্বাচন ছিল ব্যাপক দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মধ্যে অনুষ্ঠিত।
শনিবার সকালে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ক্যাথরিন সোই জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ববি ওয়াইনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, এনইউপির এক কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর মতো পোশাক পরা কয়েকজন ব্যক্তি ববি ওয়াইনের বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে। তবে ববি ওয়াইন তখন বাড়িতে ছিলেন কি না, বা তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করা যায়নি।
আল জাজিরা উগান্ডার সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ববি ওয়াইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, সারা দেশে ব্যাপকভাবে ভোট কারচুপি হয়েছে। তিনি উগান্ডার জনগণকে ‘অপরাধী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে’ আহ্বান জানান।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, মুসেভেনির সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী নেতা ও সমর্থকদের দমন করে আসছে। ৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি প্রায় চার দশক ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন এবং এবারও তিনি ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনের আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি ৮০ শতাংশ ভোট পাবেন।
শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনের আগে বিরোধী সমাবেশে সংঘর্ষ ও সমর্থকদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে ভোটের রাতে রাজধানী কাম্পালা থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বুটামবালা শহরে সহিংসতায় অন্তত ৭ জন নিহত হন।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র লিডিয়া টুমুশাবে দাবি করেন, বিরোধী দলের সমর্থকরা একটি পুলিশ স্টেশন ও ভোট গণনা কেন্দ্রের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে ববি ওয়াইনের দলের সংসদ সদস্য মুয়াঙ্গা কিভুম্বি বলেন, তার বাড়িতে নির্বাচনের ফল জানার জন্য জড়ো হওয়া বিরোধী সমর্থকদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী হামলা চালায়। তার দাবি, এতে ১০ জন নিহত হন।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে কিভুম্বি বলেন, ‘তাদের হত্যা করার পরও সেনারা গুলি চালাতে থাকে। পরে তারা নিহতদের সব প্রমাণ সরিয়ে নেয়। এখানে শুধু রক্তের দাগ পড়ে আছে।’
সূত্র : আলজাজিরা।