সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
সৌদির ৪ অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্সে একদিনে গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০ গাজায় পণ্য প্রবেশ বন্ধ, বাড়ছে খাদ্যের দাম ও সংকটের শঙ্কা দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেল কেন্দুয়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে—চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি লালনের দর্শন মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনন্য দৃষ্টান্ত: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী উত্তরায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ, ২০ পুলিশসহ আহত ৫০ উত্তরায় ‘আলোকিত কুরআন’ কর্মসূচিতে ১৫ শিক্ষার্থীকে কুরআন ও সনদ প্রদান উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে ৩০০ গাছ রোপণ, সবুজ পরিবেশ গড়ার উদ্যোগ নজরুলের মানবতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী

গাজায় পণ্য প্রবেশ বন্ধ, বাড়ছে খাদ্যের দাম ও সংকটের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

ফিলিস্তিনের গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। অর্থের অভাবে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় খাবার কিনে মজুত করতে পারছে না, ফলে বাড়ছে তাদের দুর্ভোগ।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার থেকে গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধের ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। এরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে আটা, ডিম, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকার ৫২ বছর বয়সী বাসিন্দা ইসমাইল আল-বারাওয়ি জানান, সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ হওয়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, আগে এক কার্টন ডিমের দাম ছিল ৩৫ ইসরায়েলি শেকেল (প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা)। এখন একই পরিমাণ ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ শেকেল (প্রায় ২ হাজার ৩৯১ থেকে ২ হাজার ৭৯০ টাকা)। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পাঁচ থেকে ছয় শেকেল (প্রায় ২০০ থেকে ২৪০ টাকা) থেকে বেড়ে আট থেকে ১০ শেকেলে (প্রায় ৩১৮ থেকে ৩৯৮ টাকা) দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্রতি কেজি অ্যাভোকাডোর দাম সাত থেকে আট শেকেল (প্রায় ২৭৯ থেকে ৩১৮ টাকা) থেকে বেড়ে প্রায় ১৫ শেকেল (প্রায় ৫৯৭ টাকা) হয়েছে।

আল-বারাওয়ির ভাষ্য, মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। সীমান্ত বন্ধ আরও ১০ থেকে ১৫ দিন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

দাম বাড়ায় এখন প্রয়োজনীয় পণ্যও আগের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে তাঁকে। আগে এক কার্টন ডিম কিনলেও এখন চার-পাঁচটি ডিম কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

পরিবারের ১১ থেকে ১২ জন সদস্যের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয় আল-বারাওয়িকে। অর্থ হাতে এলে তিনি আটা, চাল, রান্নার তেল, পেঁয়াজ ও আলুর মতো প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার চেষ্টা করেন। তবে গাজার বহু পরিবারের হাতে বাড়তি খাবার কেনার মতো অর্থ নেই বলে জানান তিনি।

গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ইমান আতাল্লাহ জানান, বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধ হওয়ার পর আটা কেনা তাঁর পরিবারের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাঁর মতে, সীমান্ত বন্ধের আগে ৫০ কেজি আটার বস্তার দাম ছিল ২৫ থেকে ৩৫ শেকেল (প্রায় ৯৭৫ থেকে ১ হাজার ৩৬৫ টাকা)। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৮০ শেকেলে (৩ হাজার ১২০ টাকা) পৌঁছেছে।

পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে প্রয়োজনীয় খাবার কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। সহায়তা হিসেবে পাওয়া আটা দিয়ে এক মাসেরও কম সময় চলে। দাম বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের জন্য ডিম ও ফল কেনাও কমিয়ে দিতে হয়েছে।

ইমান আতাল্লাহ বলেন, তাঁদের পরিবার এখন মূলত চাল ও ডালের ওপর নির্ভর করছে। রুটিও কিনতে হচ্ছে সীমিত পরিমাণে। কোনো কোনো দিন সকালের নাশতা কিংবা রাতের খাবার বাদ দিয়ে শুধু দুপুরের খাবার খেয়েই থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো আয় নেই, তাই খাবার মজুত করতে পারছি না। সীমান্ত ক্রসিং ১০ থেকে ১৫ দিন বন্ধ থাকলে সবকিছুর দাম অত্যন্ত বেড়ে যাবে। যাদের টাকা আছে, তারা খাবার কিনে রাখবে। আর যাদের টাকা নেই, তাদের শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া উপায় থাকবে না।’

গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধের কারণ নিয়ে ইসরায়েল ও গাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ী ও হামাসের মধ্যে ফি-সংক্রান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, বাণিজ্যিক ট্রাকের ওপর সরকারিভাবে কর বা ফি আরোপের অভিযোগ সঠিক নয়।

অফিসটির দাবি, ইসরায়েলের উল্লেখ করা ১০ হাজার শেকেলের অর্থ একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক তহবিলের সঙ্গে সম্পর্কিত, যার উদ্দেশ্য অসহায় পরিবারকে সহায়তা ও আর্থিক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা।

গাজার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েল উপত্যকায় পণ্য প্রবেশের ওপর আরও বিধিনিষেধ আরোপ করছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর প্রতি প্রতিদিন ৬০০টি ট্রাক প্রবেশ নিশ্চিত করার জন্য চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে উপত্যকাটির অর্থনীতি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবরোধ, আয় কমে যাওয়া এবং পণ্য প্রবেশে বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর (ওসিএইচএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে গাজায় খাদ্যপণ্যের গড় দাম ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের সময়ের তুলনায় ২০৪ শতাংশ বেশি ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102