তেজগাঁও কলেজ থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল—দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় গড়ে উঠেছে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি; ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে দেখতে চান সহকর্মীরা।
বিশেষ প্রতিবেদন | দৈনিক উত্তরা নিউজ
রাজনীতিতে নেতৃত্বের পরিচয় কেবল পদ-পদবিতে নয়; দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংগঠনের প্রতি অঙ্গীকার ধরে রাখার মধ্য দিয়েই একজন নেতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। এমনই এক রাজনৈতিক পথচলার নাম রবিউল আলম শিবলু। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি।
প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই সংগঠক তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে নিজের সাংগঠনিক অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। কর্মীবান্ধব আচরণ, নেতৃত্ব তৈরির দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তেজগাঁও অঞ্চলসহ ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত একটি নাম।
তেজগাঁও কলেজ থেকে রাজনৈতিক পথচলার সূচনা
১৯৯৭ সালে তেজগাঁও কলেজে ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রবিউল আলম শিবলুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ছাত্রদলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন তিনি। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন।
২০০৩ সালে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন। ২০১০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এই সময়ে তাঁর হাত ধরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন অসংখ্য তরুণ। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে শিবলুর রাজনৈতিক পরিচয় কেবল একজন সাবেক ছাত্রনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং নতুন নেতৃত্ব তৈরির একজন সংগঠক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি গড়ে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে নেতৃত্বের বিস্তৃতি
কলেজ পর্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন রবিউল আলম শিবলু।
এর মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াননি বলে জানিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় সাংগঠনিক ভূমিকা
পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় মাঠের রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও দলীয় আদর্শ ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন রবিউল আলম শিবলু।
দলীয় কর্মসূচি, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রচারের পাশাপাশি তেজগাঁও জোনসহ ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকরেন তিনি।
তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, কর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ ধরে রাখার সক্ষমতাই তাঁর অন্যতম শক্তি।
নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে পাঁচটি আসনে সক্রিয় ভূমিকা
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সংসদীয় আসন—ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৮, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৫-এর নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ও প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন রবিউল আলম শিবলু।
বিশেষ করে তেজগাঁও জোনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক সম্পর্কের কারণে নির্বাচনী কার্যক্রমে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তেজগাঁও অঞ্চলে গড়ে ওঠা কর্মীভিত্তি তাঁকে মহানগর রাজনীতিতেও একটি পরিচিত অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে।
পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব
ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা রবিউল আলম শিবলুর পুরো শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ফলে ছাত্রজীবন থেকেই ঢাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আচরণে সংযম, কর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার কারণে তিনি একজন স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত।
নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কর্মীদের মূল্যায়ন, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন।
মহানগর উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে দেখতে চান নেতাকর্মীরা
ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরে সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার কারণে রবিউল আলম শিবলুকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীর প্রত্যাশা, আগামী দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে জায়গা করে নেবেন তিনি।
তাঁদের মতে, মহানগরের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক, নতুন নেতৃত্ব তৈরির অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলা বিবেচনায় রবিউল আলম শিবলু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা রাখেন।
দীর্ঘ পথচলার সামনে নতুন সম্ভাবনা
১৯৯৭ সালে তেজগাঁও কলেজের ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতৃত্ব এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড—রবিউল আলম শিবলুর রাজনৈতিক পথচলায় রয়েছে অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার সমন্বয়।
তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অনেক রাজনৈতিক কর্মী আজ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ বিষয়টিকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম অর্জন হিসেবে দেখেন ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা।
আগামী দিনে যুবদলের মহানগর নেতৃত্বে তাঁর অবস্থান কী হবে, তা নির্ধারণ করবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক ভিত্তি ও সহকর্মীদের প্রত্যাশা তাঁকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
তেজগাঁও কলেজের ছাত্ররাজনীতি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রবিউল আলম শিবলুর সামনে এখন মহানগর রাজনীতিতে নতুন দায়িত্ব ও সম্ভাবনার অধ্যায়।