হাত ছাড়াই পৃথিবীতে জন্ম তাঁর। জন্মের পরপরই হারান মা ও বড় তিন ভাইকে। জীবনের শুরুতেই এত দুঃখ নেমে আসায় দাদা তাঁর নাম রাখেন দুখু মিয়া। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর জীবনের একের পর এক বাধা—কোনোটিই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
ছোটবেলায় দুই হাত না থাকায় মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। তবে থেমে থাকেনি তাঁর শেখার স্বপ্ন। বাবার কাছে কলাপাতায় লিখে শুরু হয় পড়াশোনা। সেই হাতহীন মানুষটিই পা দিয়ে লিখে ১৯৮২ সালে মাধ্যমিক, ১৯৮৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৮৬ সালে ডিগ্রি পাস করেন।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষিত হয়েছিলেন দুখু মিয়া। কিন্তু বারবার চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তবু হাল ছাড়েননি। টিউশনি ও কোচিং করিয়ে জমানো টাকা এবং জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’।
আজ তাঁর প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে ১৪৫ জন শিশু। সবচেয়ে মানবিক উদ্যোগ হলো, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য এখানে রয়েছে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ।
নিজে শিক্ষার সুযোগ পেতে নানা বাধার মুখে পড়েছিলেন বলেই হয়তো অন্য কোনো শিশুর স্বপ্ন ভেঙে যেতে দিতে চান না দুখু মিয়া। নিজের জীবনের বঞ্চনাকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি গড়ে তুলেছেন এমন এক প্রতিষ্ঠান, যেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নয়, গুরুত্ব পায় শিক্ষার অধিকার।
দুই হাত নেই, জীবনে এসেছে অসংখ্য বাধা। কিন্তু থেমে যায়নি তাঁর পথচলা। বরং নিজের সংগ্রামকে পুঁজি করেই তিনি আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন অন্যের জীবনে।