নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরা
রাজনীতিতে পদ-পদবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও কঠিন সময়ে দলের পাশে থাকার ইতিহাস। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের রাজনীতিতে সেলিম আহমেদ রেজা এমনই একজন কর্মী ও সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে মামলা, কারাবরণ ও নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা নিয়েই এবার তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। সেলিম আহমেদ রেজা ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের তিনবারের সদস্য—এ প্রাপ্তি তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতায় রাজনৈতিক পথচলা
সেলিম আহমেদ রেজার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি, আন্দোলন ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি হয়েছেন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেছেন—এমনটাই তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও মাঠের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন সেলিম আহমেদ রেজা। তাঁর রাজনীতির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। পদ নয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সেলিম আহমেদ রেজার রাজনৈতিক অবস্থানকে তাঁর অনুসারীরা সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার প্রত্যয়ের সঙ্গে দেখছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিট হওয়ায় এর নেতৃত্বে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয়, কর্মীদের মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সেলিম আহমেদ রেজার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অন্যতম দিক হলো সংগঠনের প্রতি আনুগত্য এবং দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নেওয়া ও আদালতে হাজির করার সময় রাজপথে সরব ছিলেন তিনি। প্রতিবারই নেত্রীর বহনকারী গাড়ির সামনে-পেছনে এবং আশপাশে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে স্লোগান দিয়ে নেত্রীর প্রতি সংহতি ও সমর্থন প্রকাশ করতেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজপথে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতেন। রাজনীতিতে পদ-পদবির চেয়ে দলের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা
সেলিম আহমেদ রেজা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হিসেবে নিজেকে তৈরি করেছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ধারণাকে দলের রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন তিনি। দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় নিজেকে একজন কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই তাঁর লক্ষ্য—এমনটাই তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।
খালেদা জিয়ার আদর্শের সৈনিক
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি তাঁর আস্থার কথাও বিভিন্ন সময় তুলে ধরেছেন সেলিম আহমেদ রেজা। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর অনুসারীদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় দলের জন্য কাজ করা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়েই একজন কর্মীর রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি হয়। সেই জায়গা থেকেই সেলিম আহমেদ রেজা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলাকে মূল্যায়ন করেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এর স্বপ্ন
বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথাও তুলে ধরেন সেলিম আহমেদ রেজা। তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দলের একজন কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ, দক্ষ সংগঠন এবং জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সরাসরি সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্যেই যুবদলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা তাঁর।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা—নতুন দায়িত্বের প্রত্যাশা
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া সেলিম আহমেদ রেজার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকে সামনে রেখে তিনি এ দায়িত্বের প্রত্যাশা করছেন। তাঁর অনুসারীরা মনে করেন, দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা নেতাদের সাংগঠনিক দায়িত্বে আসার সুযোগ তৈরি হলে তৃণমূলের সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব কমতে পারে। তবে নেতৃত্ব নির্বাচন দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়—এখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই হবে নির্ধারক।
সামনে পথচলা
সেলিম আহমেদ রেজার রাজনৈতিক পথচলা এখন নতুন এক সন্ধিক্ষণে। দীর্ঘদিনের কর্মীজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা করছেন। রাজনীতির মাঠে তাঁর সামনে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা। মামলা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা পেরিয়ে তাঁর এই পথচলা কতটা নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বে রূপ নেয়—সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহের বিষয়। তবে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে সেলিম আহমেদ রেজার বার্তা স্পষ্ট—দলের আদর্শের প্রতি আস্থা রেখে রাজপথ ও সংগঠনের কর্মী হিসেবেই তিনি এগিয়ে যেতে চান।
তারেক রহমানের নির্দেশনা ও আদর্শ বাস্তবায়নে আমি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দলের প্রতিটি কর্মসূচি শৃঙ্খলা, ঐক্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই আমার অঙ্গীকার। গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থে রাজপথে সক্রিয় থাকার প্রত্যয় আমার। দুঃসময়ে যেমন পাশে ছিলাম, আগামীতেও তেমনি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য কর্মী হিসেবে পাশে আছি এবং থাকবো।