মাঝআকাশে সহকর্মী পাইলটের অতর্কিত আক্রমণ ও ছুরি দিয়ে করা জখম সহ্য করেও ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। এমিরেটস এয়ারলাইনসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লাইদুবাই’-এর এই পাইলটের সাহসিকতায় রক্ষা পেয়েছে বিমানে থাকা ২৭টি নিষ্পাপ শিশুর জীবনও।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর ককপিটে হামলার ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটটিতে ১৭৪ যাত্রীর মধ্যে ১৬৬ জনই ইসরায়েলি নাগরিক ছিল।ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায়। পরে বিমানের ক্রু ও যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে।
বিকল্প ক্রুদের মাধ্যমে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানে থাকা সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছে বলে জানিয়েছে ফ্লাইদুবাই। এর পরই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্মিত মাচ্ছারের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।
সে অনুযায়ী স্কুলের পড়ালেখার পাট চুকিয়ে টেক্সটাইল ও পরে ম্যানেজমেন্ট কোর্স শুরু করেন তিনি। তবে ১৯ বছর বয়সে এক বিমান চলাচলবিষয়ক (অ্যাভিয়েশন) সেমিনারে অংশ নেওয়ার পরই তার জীবনের গতিপথ বদলে যায়। সে সময় তার হৃদয়ে জেগে ওঠে পাইলট হওয়ার অধম্য স্বপ্ন।
পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড থেকে বৈমানিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) অর্জন করেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ভারতে ফিরে হরিয়ানার মানেসর/গুরগাঁওয়ের এফএসটিসি-তে বোয়িং ৭৩৭ বিমান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিমান-ধরনভিত্তিক প্রশিক্ষণ (টাইপ রেটিং) সম্পন্ন করেন। স্মিতের এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নেওয়া নিয়ে মা শুরুতে দ্বিধায় থাকলেও বাবার পূর্ণ সমর্থনে তিনি অটল থাকেন নিজের স্বপ্নে।
১৩ বছরের অভিজ্ঞতায় অনন্য এক উড্ডয়ন রেকর্ড
ফ্লাইট ককপিটে স্মিত মাচ্ছার কোনো অপেশাদার বা নতুন মুখ নন। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের বিমানে ১৩ বছরেরও বেশি সময় বাণিজ্যিক উড্ডয়নের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। একজন দক্ষ ‘লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন’ হিসেবে আকাশে ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিমান উড্ডয়নের সমৃদ্ধ রেকর্ড রয়েছে এই পেশাদার বৈমানিকের।
২০১১ সালে ভারতের বাজেট এয়ারলাইন্স ‘স্পাইসজেট’-এ যোগ দিয়ে নিজের পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন স্মিত। টানা ১০ বছর সেখানে জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের জুনে স্পাইসজেট ছেড়ে সরাসরি ‘ডিরেক্ট এন্ট্রি ক্যাপ্টেন’ হিসেবে দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ‘ফ্লাইদুবাই’-এ যোগ দেন। গত চার বছর ধরে সংস্থাটিতে সুনামের সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা করছেন তিনি। কাকতালীয়ভাবে, তার ছোট ভাইও সম্প্রতি এই একই সংস্থায় বৈমানিক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ফ্লাইদুবাইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর ইসরায়েলগামী ওই ফ্লাইটের যাত্রা সম্পন্ন করতে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ বা উদ্দেশ্য নিয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে ফ্লাইদুবাই।