বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টার সাথে পাকিস্তানি হাইকমিশনার এর সাক্ষাৎ নেপালের রাষ্ট্রদূতের সাথে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জনবল-সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত। বৃহত্তর রাজশাহী সমিতি রাজশাহী বিভাগের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কৃতি সচিবদের সংবর্ধনা দিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত NTV-তে প্রচারিত হচ্ছে নির্মাতা মেহেদী হাসান (রাজু)-এর ‘ক্ষত’, চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে চলেছেন রাজু স্পীকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত ৫৮৩ জন শ্রমিকের মাঝে প্রায় ৫ কোটি টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করলেন : শ্রম মন্ত্রী কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ট্যাবুমুক্ত করতে হবে, দ্রুত কাজে যেতে চাই: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং বাস্তুচ্যুত সমস্যা সমাধানে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করবে পার্লামেন্টারি ককাস – ডেপুটি স্পীকার

এবার কার হাতে উঠছে শান্তির নোবেল?

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নাম এগিয়ে থাকলেও তারা এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য নন। বরং পর্দার আড়ালে থেকে যারা বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন, তারাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রকৃত দাবিদার—এমনটাই মনে করেন অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর হাকোন জারলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার কোনো তারকা খ্যাতির প্রতিযোগিতা নয়। তারপরও বিশ্ব রাজনীতির বড় বড় নামগুলোই সব সময় এগিয়ে থাকে।

তবে হাকোন জারলোর মতে, এর মাধ্যমে নোবেল পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার আসল কাজগুলো প্রচারের আলোর বাইরে থেকে করা হয়।

আন্তর্জাতিক আইন টিকিয়ে রাখা আদালত, যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সংগ্রহকারী সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষকে রক্ষায় নিয়োজিত মানবাধিকার সংস্থাগুলোই এর প্রকৃত দাবিদার।
আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। তবে এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এগিয়ে থাকলেও তিনি এই পুরস্কার পাবেন না। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত কোনো দেশের দায়িত্বরত প্রেসিডেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রার্থী হতে পারেন না।

অন্যান্য ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যতই থাকুক না কেন, নোবেল কমিটি একজন প্রার্থীর সামগ্রিক অবদান বিবেচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ওঠা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও এখানে অন্যতম ভূমিকা রাখবে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। একটি বড় যুদ্ধে লিপ্ত দেশের সেনাপ্রধান বা কমান্ডার-ইন-চিফকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলে তা পক্ষপাতের শামিল হবে। এটি আলফ্রেড নোবেলের উইলের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক, যেখানে দেশগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো এবং সেনাবাহিনী কমানোর কথা বলা হয়েছিল।

পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, সেভ দ্য চিলড্রেন, সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যৌথভাবে ২৮ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে এদের বাইরেও আরো অনেকে আছেন যারা এই পুরস্কার পাওয়ার দাবিদার।

এ বিষয়ে হাকোন জারলো বলেন, বর্তমানে বিশ্বে যুদ্ধের ভয়াবহতা বেড়ে চলায় নোবেল শান্তি পুরস্কারের গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বে ৬৫টি রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৯৪৬ সালের পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে এ বছর জারলোর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

হাকোন জারলোর মতে, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন শক্তিশালী করতে এবং শক্তিশালী দেশগুলোর ওপরও যে এই আইন প্রযোজ্য, তা প্রমাণে এই দুটি আদালতকে যৌথভাবে নোবেল দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যখন মার্কিন প্রশাসন আইসিসি কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তখন এই পুরস্কার আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরবে।

যুদ্ধাপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা চরম ঝুঁকিতে কাজ করেন। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রেকর্ড ১৩২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যার দুই-তৃতীয়াংশই মারা গেছেন ইসরাইলের হামলায়। সিপিজে-কে এই পুরস্কার দেওয়া হলে তা হবে অত্যন্ত যুগোপযোগী। এ ছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের রক্ষায় নিয়োজিত সেভ দ্য চিলড্রেন এবং রাশিয়া ও অধিকৃত অঞ্চল থেকে ১ হাজার ৭০০-র বেশি শিশুকে ফিরিয়ে আনা মাইকোলাইলা কুলেবার নেতৃত্বাধীন সেভ ইউক্রেন প্রশংসার দাবিদার। সুদানের গৃহযুদ্ধের মধ্যে খাবার ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাওয়া ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমসও নোবেলের যোগ্য।

অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক বৈরিতা সত্ত্বেও গত ২৫ বছর ধরে পিসফুল বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বজায় রাখা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস) নোবেল শান্তি পুরস্কারের একটি বড় দাবিদার হতে পারে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

  • Print
  • উত্তরা নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন:
এ জাতীয় আরো খবর..
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৫ | Technical Support: Uttara News Team
themesba-lates1749691102