উত্তরা ১১ নং সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্লট রাজউক কর্তৃক অন্যকে বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে সেক্টরবাসীর মানববন্ধন
এইচ এম মাহমুদ হাসান।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নামে অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ পাওয়া ৫ কাঠার প্লট স্থায়ীভাবে সোসাইটির নামে বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সেক্টরবাসী। একই সঙ্গে সোসাইটির নামে বরাদ্দ থাকা প্লট অন্য ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর’২০২৬) জুমার নামাজের পর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউ রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফিরোজ জামানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
মানববন্ধনে মূল বক্তব্য প্রদান করেন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নামে অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ করা প্লটটি দীর্ঘদিন ধরে সেক্টরবাসীর কল্যাণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ওই জমিতে সেক্টর কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় প্লটটি অন্য ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগে সেক্টরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ফিরোজ জামান বলেন, ‘আমরা এই প্লটে দুই যুগের বেশি সময় ধরে সেক্টর কল্যাণ সমিতির অফিস পরিচালনা করে আসছি। দীর্ঘদিন ধরে সেক্টরবাসীর বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম এখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। তাই প্লটটি স্থায়ীভাবে সোসাইটির নামে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন,
আমাদের সোসাইটিতে ১০ হাজার পরিবার এবং প্রায় ৫০ হাজার জনসাধারণ বসবাস করে। অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সামাজিক সেবামূলক সংগঠনটি গত ২৬ বছর ধরে ১১ নং সেক্টরের ২৪ ঘণ্টা সার্বিক নিরাপত্তা পাহারা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং এ জড়িত না হওয়ার জন্য কাউন্সেলিং পরিচালনা করা, মাদক দ্রব্য সেবন থেকে বিরত রাখা, সামাজিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা, সরকারি টিকাদান কেন্দ্র পরিচালনা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা প্রদান সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন, খেলাধুলা ও বিনোদনসহ নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সফলভাবে পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সোসাইটির কার্যালয়ের সম্মুখে একটি শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়।
তাই এই প্লটটি শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে অন্যকোনো ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দেওয়া মেনে নিবো না, প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলা হবে ইনশাআল্লাহ।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সোসাইটির কার্যক্রমসমূহ সুচারুভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে ২০০৬ সালে রাজউক (স্মারক নং রাজউক/এস্টেট/১৬৩০ স্থা, তারিখ-০৫/০৯/২০০৬) সোসাইটির নামে ০৫ (পাঁচ) কাঠা জমি অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল চক্র করে ২০১৭ সালে সোসাইটির এই জমি জনৈক ডা. রেজাউল ইসলাম এর নামে বরাদ্দ প্রদান করেন। এলাকাবাসী প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ফলে রাজউক উক্ত জমি আবার সমিতির নামে অস্থায়ী বরাদ্দ প্রদান করে।
সোসাইটির কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যম কে জানায়,
২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পরে উক্ত জমি অসাধু কর্মকর্তা ও যোগসাজশে সমিতির উক্ত জমি স্মারক নং রাজউক/এস্টেট ও ভূমি-২/উত্তরা/১০৩০৪-স্থা, তারিখ-১৯/১২/২০২৪ মোতাবেক আবারও বাতিল করে স্মারক নং রাজউক/এস্টেট ও ভূমি-২/উত্তরা (২য় পর্ব)/১০৩০৫-স্থা, তারিখ-১৯/১২/২০২৪ মোতাবেক মোঃ আব্দুল লতিফ এর নামে বরাদ্দ প্রদান করেন। তখন সেক্টরবাসীদের তীব্র প্রতিবাদ, আন্দোলন ও বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব বর্তমানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের নির্দেশে রাজউক কর্তৃপক্ষ আব্দুল লতিফের বরাদ্দ বাতিল করে পুনরায় জমিটি সোসাইটির অনুকূলে অস্থায়ী বরাদ্দ প্রদান করে-বয় স্মারক নং রাজউক/এস্টেট ও ভূমি-২/উত্তরা/৪০০ স্থা, তারিখ-১৫/০১/২০২৫।
এখন আবারও সেই আব্দুল লতিফকেই রাজউক কর্তৃপক্ষ প্লটটি বরাদ্দ পায়তারা করছে যা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
মানববন্ধনে ১১ নম্বর সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. মঈন উদ্দীন আহমদ রাজউক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অবিলম্বে প্লট টি অন্যের নামে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সেক্টরবাসী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।’ তারা প্রয়োজনে রাজউক ভবন ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর ওয়েলফেয়ার সোসাইটির, সাংগঠনিক সম্পাদক মোগল ভূঁইয়া, অর্থ সম্পাদক সাইফুল্লাহ সৃজন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আজমল হোসেন মালদার এবং নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইকবাল ভূঁইয়া সুজন।
এ সময় সোসাইটির সদস্যসহ ১১ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।