১৯৬২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা সংকোচন ও গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের আন্দোলনে রাজপথ রক্তাক্ত হয়েছিল। পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন বাবুল, গোলাম মোস্তফা ও ওয়াজিউল্লাহসহ অনেকে। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস পালন করা হয়।
মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সংসদের সদস্য ইব্রাহিম সিকদার বলেন,
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন আমাদের ছাত্র আন্দোলনের গৌরবের ইতিহাস। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রসমাজ দেখিয়েছিল, শিক্ষা কোনো বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য নয়, শিক্ষা সবার অধিকার। আজও সেই দাবির প্রাসঙ্গিকতা শেষ হয়নি।
বর্তমান সময়ে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, বৈষম্য ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের কারণে অসংখ্য শিক্ষার্থী নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। একটি দেশে ধনী পরিবারের সন্তান যে সুযোগ পাবে, দরিদ্র পরিবারের সন্তানও যেন একই সুযোগ পায়, সেটিই হতে হবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য।
শিক্ষা দিবস শুধু শহীদদের স্মরণ করার আনুষ্ঠানিকতা নয়। ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে এবং শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সংগঠিত হতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন শিক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবসের কর্মসূচিতে দেশের সকল শিক্ষার্থীকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।
প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দিবসের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করুন, শহীদদের স্মরণ করুন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও শিক্ষার সংকট নিয়ে কথা বলুন। শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা মানুষের অধিকার। এই অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে মহান শিক্ষা দিবসের কর্মসূচি সফল করুন এবং শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান অ