পর্দায় নানা চরিত্রে প্রেম করেছেন, বিয়ে করেছেন, সংসারও পেতেছেন। তবে বাস্তব জীবনেও কি এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ।
এমন প্রশ্ন উঠেছে একটি বিয়ের বিজ্ঞাপনকে ঘিরে। কারণ, পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নাকি পাত্রী খুঁজছেন আরিফিন শুভ!
শুনতে চমকপ্রদ মনে হলেও এর পেছনের রহস্য আরও মজার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন। সেখানে পাত্রের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আনিসুর রহমান আনিস’।
বয়স ৩৫ বছর, পেশায় সরকারি প্রকৌশলী। বিজ্ঞাপনে তার গুণের তালিকাও বেশ দীর্ঘ—নম্র, সৎ, দায়িত্বশীল, এমনকি রান্নাতেও পারদর্শী তিনি।
পাত্রের জন্য চাওয়া হয়েছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুন্দরী পাত্রী। তবে শুধু সৌন্দর্য নয়, পাত্রের ছোট ভাই-বোনের দায়িত্ব নেওয়ার মতো অভিভাবকসুলভ মানসিকতার পাত্রীকে দেওয়া হবে বিশেষ অগ্রাধিকার।
পাত্রী চাই নাম: আনিসুর রহমান আনিস বয়স: ৩৫ পেশা: সরকারি ইঞ্জিনিয়ার মাতবহীন, নমর, সৎ ও দায়িত্বশীল (রন্ধনশিল্পে পারদ্শী) ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের জন্য, সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুন্দরী পাত্রী আবশ্যক। পাত্রের ছোট ভাই- ভাই-বোনে বোনের দায়িত্ব নেয়ার মত অভিভাবকসুলভ পাত্রী অগ্রাধীকার পাবে। বি.দ্র বিজ্ঞাপনী স্বার্থে প্রচারিত আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন পাত্রের খালু: +bbo ৯৬১৩ ১০২০১০’
এ পর্যন্ত সবই যেন একটি সাধারণ বিয়ের বিজ্ঞাপন। কিন্তু আসল চমক লুকিয়ে আছে পাত্রের ছবিতে। ‘আনিসুর রহমান আনিস’-এর ছবির জায়গায় দেখা যাচ্ছে আরিফিন শুভকে!
তাহলে কি সত্যিই বিয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছেন শুভ? ব্যক্তিজীবনে সিঙ্গেল এই অভিনেতার জন্য কি এবার শুরু হয়েছে পাত্রী খোঁজার মিশন? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো গল্প?
রহস্য অবশ্য এখানেই শেষ নয়।
একই জায়গায় প্রকাশিত হয়েছে আরও একটি ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন। সেখানে পাত্রীর নাম ‘অনামিকা অনু’। বয়স ২৪ বছর, অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। নৃত্যকলায় পারদর্শী, ট্রেন্ডি ও ইনফ্লুয়েন্সার এই তরুণীর জন্য খোঁজা হচ্ছে সৎ ও বোঝদার একজন সুপাত্র।
তবে পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ আধুনিক কিছু শর্ত। ফটোজেনিক ও ‘পিন্টারেস্ট পারফেক্ট’ পাত্রকে দেওয়া হবে বিশেষ অগ্রাধিকার! আর ‘অনামিকা অনু’র ছবির জায়গায় দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী কেয়া পায়েলকে।
May be an image of text that says ‘পাত্র চাই নাম: অনামিকা অনু বয়স: ২৪ শিক্ষা: অনার্স ৪র্থ বর্ষ কালচারাল মাইন্ডেড (নৃত্যকলায় পারদ্শী), ট্রেনি্ডি ও ইনফুয়েন্সার তরুণীর জন্য সৎ ও আন্ডারস্ট্যান্ডিং সুপাত্র প্রয়োজন। ফটোজেনিক ও পিন্টারেস্ট পারফেক্ট পাত্র বিশেষ অগ্রাধীকার পাবে। বি.দ্র বিজ্ঞাপনী স্বার্থে প্রচারিত আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন পাত্রীর বাবা: +bbo ৯৬১৩ ১০২০১০’
একদিকে আরিফিন শুভর ছবিসহ ‘পাত্রী চাই’, অন্যদিকে কেয়া পায়েলের ছবিসহ ‘পাত্র চাই’—দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে তাই খুব বেশি সময় লাগেনি নেটিজেনদের। দুজনের ব্যক্তিজীবনও বর্তমানে সিঙ্গেল। তাহলে কি এই বিজ্ঞাপনের পাত্র-পাত্রীর গল্পে শুভ ও পায়েলই একে অপরের কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী?
নাকি পুরো বিষয়টির পেছনে রয়েছে অন্য কোনো চমক?
বিজ্ঞাপনের একেবারে নিচে ছোট্ট করে লেখা রয়েছে, ‘বিজ্ঞাপনী স্বার্থে প্রচারিত’। আর এই ছোট্ট লাইনটিই খুলে দিয়েছে পুরো রহস্যের জট।
জানা গেছে, আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল অভিনীত সিনেমা ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর প্রচারণার অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে এই অভিনব উদ্যোগ। সিনেমাটিতে শুভর চরিত্রের নাম আনিস, আর কেয়া পায়েলের চরিত্রের নাম অনামিকা।
তাই পত্রিকার পাতায় ‘আনিসুর রহমান আনিস’-এর জন্য পাত্রী এবং ‘অনামিকা অনু’র জন্য পাত্র খোঁজার এই বিজ্ঞাপন আসলে সিনেমার চরিত্র দুটিকে ঘিরেই সাজানো প্রচারণার কৌশল। সঙ্গে শুভ ও পায়েলের ছবি থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
তবে বিজ্ঞাপন দেখে যারা সত্যিই আরিফিন শুভর জন্য পাত্রী খোঁজার কাজে নেমে পড়েছিলেন, তাদের আপাতত একটু থামতেই হচ্ছে। কারণ, পত্রিকার পাতায় শুরু হওয়া এই বিয়ের গল্প বাস্তবের নয়, সিনেমার প্রচারণার অংশ।
শেষ পর্যন্ত আনিস আর অনামিকার সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তার উত্তর মিলবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর গল্পেই।